‘মাদকের আসর’ থেকে আটক এএসআই থানা থেকে উধাও
-c5a389-720x405.webp)
বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ আটক এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) থানা হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছেন। তবে পালানোর ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা হলেও সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে আসে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে থানা হেফাজত তিনি পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
দেলোয়ার হোসেন (৩৮) নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের হেফাজতে দেওয়া হয়েছিল।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ কড়াপুর এলাকার মিরাজুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দেলোয়ারসহ চারজনকে আটক করা হয়। এ সময় বাড়িটি থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি।
দেলোয়ার হোসেন ছাড়া আটক অন্য তিনজন হলেন বাগেরহাটের ফকিরহাটের নাহিদ হাসান (২৬), বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুরের মিরাজুল ইসলাম (৩৪) এবং বরিশাল নগরের পলাশপুর এলাকার ফাতেমা আক্তার নুরজাত (৩০)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, দক্ষিণ কড়াপুরের একটি বাড়িতে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের পাশাপাশি নিয়মিত মাদকের আসর বসে। এর ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
তার ভাষ্য, অভিযানের সময় বাড়িটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় প্রবেশের চেষ্টা করেও প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। পরে বাড়ির ভেতরে ঢুকে চারজনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। পরে এয়ারপোর্ট থানা-পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি; শুধু মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ কারণে পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি সেখানে কেন গিয়েছিলেন, তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখবেন। তাঁর ডোপ টেস্ট করার জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ওই তিনজনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ডোপ টেস্ট করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানা হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এয়ারপোর্ট থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি বলেন, পালায়নি, আর পালিয়ে যাবেই বা কোথায়। সরকারি চাকরি করে না! হয়তো শাস্তি হবে বলে ভয় পেয়ে কোথাও গিয়েছে। তার খোঁজ চলছে। বিস্তারিত পরে সাংবাদিকদের জানানো হবে।
