logo

নড়াইল/জরাজীর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

জরাজীর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মহাজন উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে ঝুঁকি নিয়ে পাঠগ্রহণ করছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ছাদ চুইয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি, খসে পড়ছে পলেস্তারা, ফাটল ধরেছে পিলারেও। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই প্রতিদিন পাঠদান চলছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মহাজন উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ভবনের সমস্যার সমাধানে ছয় বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও মেলেনি কোনো স্থায়ী প্রতিকার। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে।

বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিসকক্ষের বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও পিলারেও ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ ভিজে যায়, যার ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০০ সালে ভবনটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পুনর্নির্মাণের প্রায় এক দশক পর থেকেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভবনের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক পাঠদান করছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা দিন দিন বাড়ছে। নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের অভাবে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলা রানী সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের আসবাবপত্রের সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পিডিপি-৫ কার্যক্রমের আওতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে পাঠানো হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করেছেন। নতুন আসবাবপত্র দেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, পুরোনো ভবনের ছাদ চুইয়ে লাইব্রেরি ও শ্রেণিকক্ষে বৃষ্টির পানি পড়ে। লাইব্রেরির বইপত্র রক্ষায় নিজ উদ্যোগে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হলে পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

কালিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়টির সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদের সভাতেও বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। সেখান থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেলে, নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।