Advertisement

‘ডিউটি শেষ কইরা আইসা দেখি মেয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চাঁদপুর
‘ডিউটি শেষ কইরা আইসা দেখি মেয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছে’
মেয়েকে হারিয়ে মায়ের আহাজারি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার কোয়া চাঁদপুর গ্রামে এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) উপজেলার কোয়া চাঁদপুর গ্রামের কালাগাজী বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

Advertisement

নিহত শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার উপজেলার তুলপাই গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। সে চান্দিনা উপজেলার কৈলাইন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। নাদিয়া মায়ের সাথে তার নানার বাড়ি কোয়া চাঁদপুর গ্রামে থাকত।

নিহত নাদিয়ার মা নুরুন্নাহার বেগম জানান, তিনি কচুয়া টাওয়ার হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আয়া পদে চাকরি করেন। রাতে ডিউটি শেষে সকাল ১০টায় বাড়িতে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। নাদিয়াকে অনেকবার ডাকাডাকি করলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তিনি মেয়েকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

তিনি আরও জানান, তার মেয়ে পার্শ্ববর্তী চান্দিনা উপজেলার কৈলাইন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দেয়। সদ্য ফলাফল প্রকাশের পর জানতে পারেন, তিন বিষয়ে তার মেয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। তবে পরীক্ষায় ফেল করার বিষয় নিয়ে তিনি মেয়েকে কিছুই বলেননি।

স্থানীয়রা জানান, নাদিয়ার বাবা বিল্লাল হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে তার মা নুরুন্নাহার বেগমের ভরণপোষণ বা কোনো খোঁজখবর রাখতেন না। দুই বোনকে নিয়ে তার মা নানার বাড়িতেই থাকতেন এবং বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করে সংসার চালাতেন। মেয়েটি আত্মহত্যা করার আগে সর্বশেষ তার বাবা বিল্লাল হোসেনের সাথে মোবাইলে কথা বলেছিল।

কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম জানান, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে পুলিশ কাজ করছে।

বিষয় :