logo

চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন থামিয়ে অবরোধ, সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক

চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন থামিয়ে অবরোধ, সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের আনসারবাড়ীয়ায় পূর্ণাঙ্গ রেল স্টেশন ও স্টেশন মাস্টার নিয়োগের দাবিতে ট্রেন আটকে স্থানীয় এলাকাবাসীর অবরোধ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আনসারবাড়িয়ায় পূর্ণাঙ্গ রেলস্টেশন চালু ও স্টেশনমাস্টার নিয়োগের দাবিতে ট্রেন থামিয়ে অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে রাখা হয়। পাশাপাশি আশপাশের স্টেশনগুলোতে আটকা পড়ে কয়েকটি ট্রেন। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়ায় স্বাভাবিক হয় রেল চলাচল।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলার আনসারবাড়িয়া রেলস্টেশন চত্বরে এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে স্থানীয় প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। পরে দুপুরে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।

অবরোধকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী আনসারবাড়িয়া রেলস্টেশনটি পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, দুজন স্টেশনমাস্টারসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্ল্যাটফর্ম ও বিশ্রামাগার নির্মাণসহ স্টেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহীগামী আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের উভয়মুখী যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।

অবরোধকারীরা বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন আনসারবাড়িয়া। অথচ স্টেশনটিতে স্থায়ীভাবে কোনো স্টেশনমাস্টার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

তারা আরও বলেন, আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়ন ও বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এ স্টেশন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও দূরপাল্লায় মালামাল পরিবহনের জন্য স্টেশনটি ব্যবহার করেন। তাই স্টেশনটি সংস্কার, আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের উভয়মুখী যাত্রাবিরতি এবং ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালু করা জরুরি।

বর্তমানে স্টেশনটিতে যে ট্রেনটি থামে, সেটিও ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। ফলে নিচ থেকে উঁচুতে উঠে ট্রেনে ওঠানামা করতে গিয়ে নারী, বয়স্ক ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ কারণে ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানোর দাবি জানান তারা।

দাবিগুলো ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেনে নেওয়া না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন অবরোধকারীরা।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান বলেন, স্টেশনটি অনেক পুরোনো হলেও এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর, দামুড়হুদা ও দর্শনা এবং ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন। তারা সহজেই ঢাকা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারবেন। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, অবরোধের কারণে রূপসা, চিত্রা, রকেট ও মহানন্দা এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন রুটের ট্রেন আটকা পড়ে। দুপুর দেড়টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, অবরোধকারীদের দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হলে তরা অবরোধ তুলে নেন। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।