সরকারি হালটে কবরস্থানের দেয়াল, বিএনপি নেতা বললেন ‘কোনো বিষয় না’

পটুয়ালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় হালটের জমি দখল করে পারিবারিক কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় এক সাংবাদিকের পরিবার।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর লেবুখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আঠারগাছিয়া গ্রামের সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত দুজন হলেন দুমকি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার সিকদার এবং উপজেলা বিএনপির ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক আবু সালেহ খোকন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সাংবাদিক কামাল সিকদারের অভিযোগ, সরকারি রেকর্ডে হালট হিসেবে চিহ্নিত জমির ওপর পারিবারিক কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করায় তাদের বাড়িতে যাতায়াতের দীর্ঘদিনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আঠারগাছিয়া মৌজার ১৫০২ নম্বর প্লটের একটি সরকারি হালট কার্তিকপাশা ও আঠারগাছিয়া গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। দক্ষিণ আঠারগাছিয়া বায়তুল হাসান জামে মসজিদের উত্তর পাশে অবস্থিত ওই হালটের প্রায় ২৯ শতক জমি পারিবারিক কবরস্থানের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এর আগে ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ তাদের।
সাংবাদিক কামাল সিকদার বলেন, ঘটনার সময় তিনি পটুয়াখালী শহরে ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দেয়াল নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। পরে দুমকি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। খবর পেয়ে তিনিও সেখানে গিয়ে দেখেন, তাদের বাড়িতে প্রবেশের পথে দেয়াল নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত আবদুল জব্বার সিকদার ও তার ভাই আবু সালেহ খোকন জায়গাটি সরকারি হালট বলে স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দাবি, এটি তাদের বাপ-দাদার আমলের পারিবারিক কবরস্থান।
সরকারি জমিতে পাকা দেয়াল নির্মাণ করা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল জব্বার সিকদার বলেন, ‘দেশে এমন অনেক অনিয়ম হচ্ছে, এটা কোনো বিষয় না।’ এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরাও একই ধরনের মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু মুছা বলেন, খবর পেয়ে শনিবার সকালে তিনি লোক পাঠিয়েছেন। বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। সরকারি খাসজমি হাঁটার জন্য ব্যবহার করা যাবে; তবে সেখানে ভবন বা দেয়াল নির্মাণ করা অপরাধ।

