logo
Advertisement

সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিম

সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিম
বাসার পাশে কবরস্থানে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চিরনিদ্রায় শায়িত হলো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। অশ্রুসিক্ত চোখে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন করেন তার শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণকারীরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতিতে বাসার পাশের কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় অপ্রতিমকে।

এর আগে, এদিন সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা এবং বেলা ১১টায় গন্ধমতিতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

অপ্রতিম নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অপ্রতিমের সন্ধানে খোঁজ চালান। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানানো হয়েছে।

শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের মরদেহ কোটবাড়ি গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ।

পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।