৭ শিক্ষকের ৮ পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

পিরোজপুর সদর উপজেলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করতে পারেনি কেউই। শতভাগ ফেলের এমন হতাশাজনক ফলাফল দেখে নির্ধারিত ছুটির আগেই স্কুল বন্ধ করে বাড়ি চলে গেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই করুণ চিত্র সামনে আসে। ৭ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৮ পরীক্ষার্থীর এমন ফলাফল বিপর্যয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে নিয়মিত ৭ জন ও অনিয়মিত ১ জনসহ মোট ৮ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ জন এবং তার বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ৭ জন।
এলাকাবাসীর দাবি, একসময় বিদ্যালয়টির ফলাফল যথেষ্ট ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার মান বাড়েনি। তাদের অভিযোগ, স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে যথাযথ তদারকি নেই। প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। তা ছাড়া ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় কোনো জবাবদিহিতা নেই। কাগজ-কলমে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কথা বলা হলেও বাস্তবে নিয়মিত ৫-৬ জনের বেশি শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত থাকে না বলেও স্থানীয়রা জানান।
অভিভাবক আবুল ও বাসুদেব বলেন, আমরা কষ্ট করে সন্তানদের ৪-৫টি বিষয়ে প্রাইভেট পড়িয়েছি। কিন্তু স্কুলে শিক্ষকেরা কী পড়ান, তা বুঝতে পারছি না। সেখানে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ক্লাস হতো না। অনেক দিন ১০টায় গিয়ে ১১টায় চলে এসেছে, আবার কখনো শিক্ষকেরা না থাকায় শিক্ষার্থীরাও আগেই বাড়ি ফিরে এসেছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাছলিমা আক্তার বলেন, এ বছর আমাদের বিদ্যালয় থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কেউ ঠিকমতো পড়াশোনা না করায় পাস করেনি। এ ছাড়া আগে শিক্ষকসংকট থাকায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। একসময় মাত্র ৩ জন শিক্ষক ছিলেন, গণিত ও ইংরেজির কোনো শিক্ষক ছিল না। তখন ঠিকমতো ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ৭ জন শিক্ষক আছেন। শিক্ষকেরা চেষ্টা করলেও গ্রামের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে চায় না, এমনকি তাদের বাবা-মারাও তেমন সচেতন নন।
নির্ধারিত সময়ের আগে স্কুল ছুটির বিষয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষার খারাপ রেজাল্ট দেখে মনটা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল, তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল ছুটি দিয়ে বাড়ি চলে এসেছি। তবে অন্য দিনগুলোতে নিয়মিত বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্কুল খোলা থাকে।
শিক্ষার্থীদের অবহেলার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বার বার চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যায় না। তারা না পড়লে আমাদের কী করার আছে? এক পরীক্ষার্থী তো বলেই ফেলেছিল—একবারে পাস করব কেন, তিনবারে পাস করব, পাস না করলে বিয়ে করব।
বিষয়ে জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করেনি। আমরা যোগাযোগ করে জেনেছি, দীর্ঘদিন তাদের গণিত ও ইংরেজির শিক্ষক ছিল না। পাশাপাশি দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ছিল না এবং তাদের চরম অবহেলার কারণেই এমন ফল হয়েছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
.png)


