logo

চাঁদপুর/জরাজীর্ণ ডাকঘর, ঝুঁকি নিয়ে চলছে সেবা

আল-আমিন ভূঁইয়া
চাঁদপুর
জরাজীর্ণ ডাকঘর, ঝুঁকি নিয়ে চলছে সেবা
চাঁদপুর মতলব উত্তর উপজেলার জরাজীর্ণ ডাকঘরের ভেতরে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া স্যাঁতসেঁতে কক্ষে চলছে দাপ্তরিক কাজ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার ডাক বিভাগের বেশ কয়েকটি ভবন দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, আবার কোথাও বের হয়ে গেছে মরিচা ধরা রড। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই আতঙ্ক নিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জেলা পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার দুটি সাব-পোস্ট অফিস ও একটি উপজেলা পোস্ট অফিসের আওতায় মোট ৪৮টি ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিস রয়েছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২টির নিজস্ব ভবন রয়েছে। নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় বাকি ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসগুলোর কার্যক্রম চলছে বিভিন্ন দোকান ও বাসাবাড়িতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের পলেস্তারা ও রড খসে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে ভবনগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে যেসব ভবন একদম ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, সেগুলো ভেঙে নতুন ও আধুনিক ভবন নির্মাণের আহ্বান জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলার দশানী ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের ভবনটি ১৯৯২ সালে নির্মিত হয়। দীর্ঘ সময় কোনো সংস্কার না হওয়ায় ভবনের অধিকাংশ স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ার পাশাপাশি ছাদের লোহার রড বের হয়ে গেছে। কাজের সময় প্রায়ই আসবাবপত্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ছাদের অংশ খসে পড়ছে। এমন অবস্থায় চরম ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে তাদের।

দশানী ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার গোলাম মাওলা বলেন, ভবনটি ১৯৯২ সালে নির্মাণের পর আর কখনো সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত ও ব্যবহারের অযোগ্য। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তাই চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে আমাদের কাজ চালাতে হচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর সাব-পোস্ট অফিসেও। ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থার পাশাপাশি কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

মোহনপুর সাব-পোস্টমাস্টার মাহবুব সরকার জানান, অফিসের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বাধ্য হয়ে কেবল চাকরির স্বার্থে চরম কষ্টে দায়িত্ব পালন করছি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানালেও কর্তৃপক্ষ মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ডাকঘরগুলোর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে জরাজীর্ণ ভবনগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা হবে। পরবর্তী সময়ে তা দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।