logo

জামায়াত নেতার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পদ হারালেন কুমিল্লা মহানগর এবি পার্টির আহ্বায়ক

জামায়াত নেতার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পদ হারালেন কুমিল্লা মহানগর এবি পার্টির আহ্বায়ক
আমার বাংলাদেশ পার্টির কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানী। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে দল থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এ সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে অবিলম্বে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।

১৫ অক্টোবর এবি পার্টির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গোলাম মোহাম্মদ সামদানী দলের নাম, পদবি বা প্রতীক ব্যবহার করে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। এ ছাড়া দলের পক্ষে কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এ সময়ে তার কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের দায় দল বহন করবে না। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য কুমিল্লা মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নির্ধারণ করা হবে।

এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে কুমিল্লা নগরীর মোগলটুলী এলাকার ফারুকী হাউসে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের সামনে একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুরের শিকার গাড়িটি দলটির মহানগর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের বলে জানা গেছে।

দলটির আসন্ন মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় কার্যালয়ের চারতলায় ভেতরে কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেখানে ভিডিও করা নিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি হয় বলে জানান নেতৃবৃন্দ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দাবি করেন, কার্যালয়ের বাইরে থাকা মাহবুবুর রহমানের গাড়িটি গোলাম মোহাম্মদ সামদানী ভাঙচুর করেছেন।

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নেতা মুহাম্মদ নূরে আলম বাবু বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরায় তো তাকেই দেখা যাচ্ছে। তিনি সম্পৃক্ত না থাকলে কেন তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো?

গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে গোলাম মোহাম্মদ সামদানী বলেন, আমি বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে ছিলাম।

এদিকে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ জানান, তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছেন। এখনও মামলা করা হয়নি এবং মামলা করার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি। তবে ঘটনাটির পর থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা করতে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।