ফরিদপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১২

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সামি বেপারী (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কৈডুবি সদরদী মহল্লায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত সামি ওই এলাকার বাসিন্দা আতিকুর বেপারীর ছেলে। তিনি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মনিরুজ্জামান বেপারীর চাচাতো ভাইয়ের ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৈডুবি সদরদী মহল্লায় মাওলানা মো. মনিরুজ্জামান বেপারী ২০২৪ সালে নিজ বাড়িতে ‘হযরত ফাতিমাতুয যাহোরা মহিলা মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী বসার মাতুব্বরের ছেলে জিসান মাতুব্বর (১৩) প্রায়ই ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করত।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জিসান মাদ্রাসার সামনে ঘোরাফেরা করার পাশাপাশি টিনের প্রাচীরে ইট দিয়ে আঘাত করে। বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক মনিরুজ্জামান বেপারী প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে জিসান বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে মাতুব্বর পক্ষের লোকজন সংবদ্ধ হয়ে মনিরুজ্জামানের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাতুব্বর পক্ষের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—সবুজ বেপারী, মনির বেপারী, আরাফাত হোসেন, শাবানা বেগম ও আতিয়ার বেপারী। আহতদের মধ্যে সাতজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে গুরুতর আহত সামি বেপারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথিমধ্যেই দুপুর আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আছমত মাতুব্বর জানান, মাদ্রাসার ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করা নিয়েই প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে উভয় পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোবাশ্বিরা ইয়াসমিন জানান, সংঘর্ষে গুরুতর আহত সামি বেপারী মারা গেছেন। এ ছাড়া আহত দুজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং চারজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এশিয়া পোস্টকে বলেন, ছাত্রী উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
.png)


