Advertisement

‘হামার বাবাক হামি বিদেশ যাবা দিমু না রে’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নওগাঁ
‘হামার বাবাক হামি বিদেশ যাবা দিমু না রে’
সৌদিতে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহলী গ্রামের জাননার হোসেনের বাবার আহাজারি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

‘হামার বাবাক হামি বিদেশ যাবা দিমু না রে, হামার দয়ার বাবা রে’— বুকফাটা আহাজারি ও অঝোর ধারায় চোখের পানি ফেলতে ফেলতে কথাগুলো বলছিলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহলী গ্রামের জাননার হোসেন। সৌদি আরবে সোফা কারখানার আগুনে পুড়ে মারা গেছেন তার সন্তান রুবেল হোসেন।

Advertisement

রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১৬ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ১৩ জনেরই বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

নিহত রুবেলের বাবা জাননার হোসেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই একটু চঞ্চল স্বভাবের ছিল, সারা দিন ঘুরে বেড়াত। কখনও চোখের আড়াল হতে দিইনি। যখন বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, অনেক বারণ করেছিলাম। বলেছিলাম তুই বিদেশ যাসনে বাপ। কিন্তু পরিবারের অভাব দূর করা, ঋণের বোঝা কমাতে বাধ্য হয়ে সে প্রবাসে গেল।

শুধু গন্ডগোহলী গ্রামই নয়, সংলগ্ন বিশা, ডুবাই, বৈঠাখালি, খনজোর, পারকসুন্দা ও দিঘিরপাড়সহ আত্রাইয়ের একাধিক গ্রামে এখন শুধুই স্বজন হারানোর আর্তনাদ। কোনো বাড়িতে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কেউ নেই, প্রতিটি পরিবারে চলছে মাতম।

এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, মরদেহগুলো দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হচ্ছে।

বিষয় :