logo

ফরিদপুর/বাঁশের ব্যারিকেডের বদলে কলাগাছ, ঝুঁকিতে পথচারীরা

বাঁশের ব্যারিকেডের বদলে কলাগাছ, ঝুঁকিতে পথচারীরা
ফরিদপুর শহরের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পৌরসভার পানির লাইন সংস্কারের জন্য খুঁড়ে রাখা স্থানে নিরাপত্তা বেষ্টনীর বদলে পুঁতে রাখা হয়েছে কলাগাছ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ফরিদপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে পৌরসভার পানির লাইন সংস্কারের জন্য খনন করা স্থান ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রচলিত বাঁশের ব্যারিকেড, রিফ্লেক্টিভ টেপ কিংবা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডের পরিবর্তে কলাগাছ দিয়ে খনন করা স্থানটি ঘিরে রাখার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, দিনের বেলায় বিষয়টি দৃশ্যমান হলেও রাতে এ ধরনের ব্যবস্থা পথচারী ও যানবাহন চলাচলকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

সরেজমিনে ফরিদপুর শহরের সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সামনের এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার পানির লাইন সংস্কারের জন্য সড়কের পাশে একটি অংশ খনন করা হয়েছে। খনন করা স্থানটির চারপাশে কয়েকটি কলাগাছ দিয়ে বেষ্টনী তৈরি করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে পানির লাইনের সংস্কারকাজ চললেও খনন করা স্থানটি নিরাপদ রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে রাতে কলাগাছের বেষ্টনী দূর থেকে সহজে দৃশ্যমান না হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

তাদের মতে, সড়কের পাশে পানির লাইন মেরামত বা সংস্কারের জন্য খননকাজ চললে সাধারণত দৃশ্যমান ব্যারিকেড, রিফ্লেক্টিভ টেপ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। কিন্তু এসবের পরিবর্তে শুধু কলাগাছ দিয়ে জায়গাটি ঘিরে রাখায় রাতের বেলায় খনন করা স্থানটি পথচারী ও যানবাহনের চালকদের কাছে সহজে দৃশ্যমান নাও হতে পারে।

স্থানীয় পথচারী মহসিন আলম বলেন, দিনের বেলায় কলাগাছ দেখা গেলেও রাতে দূর থেকে বোঝার উপায় নেই, সামনে গর্ত রয়েছে। কোনো মোটরসাইকেল আরোহী বা পথচারী অসতর্ক হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জ্যাক আহমেদ বলেন, পানির লাইনের কাজ হলে মানুষের নিরাপত্তার জন্য দৃশ্যমান ব্যারিকেড ও আলো থাকা উচিত। কলাগাছ দিয়ে শুধু জায়গাটা ঘিরে রাখলে সেটা কতটা নিরাপদ, সেটিই এখন প্রশ্ন।

স্থানীয়রা বলছেন, ব্যস্ত সড়কের পাশে খনন করা স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। বিশেষ করে রাতে রিফ্লেক্টিভ টেপ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আশরাফ বলেন, এটি কোনো ড্রেন নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ নয়; সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পৌরসভার পানির লাইনের সংস্কারকাজ চলছে।

তিনি বলেন, প্রায় তিন দিন আগে কাজটি শুরু হয়। প্রথমে পানির লাইনের পাইপ ফেটে যায়। পরে খনন করা স্থানে কলাগাছ লাগিয়ে বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে, যাতে দূর থেকে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে এখানে কাজ চলছে।

তবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে পানির লাইনের সংস্কারকাজে জনসাধারণের নিরাপত্তায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ আশরাফ বলেন, এই কাজটি আমার ইচ্ছাধীনভাবে হয়নি। এখানে মিস্ত্রিরা ভুল করেছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আলম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ওখানে কোনো ড্রেন নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ওই স্থানটিতে মূলত পৌরসভার পানির লাইনের কাজ হচ্ছে। মিস্ত্রিরা কাজ করার সময় পাশে গর্ত করে পানির লাইনের মেরামত ও ছিদ্র বন্ধ করছিল।

জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আমি এখনই সেখানে দায়িত্বে থাকা সৈয়দ আশরাফকে ফোন করে কাজের স্থানটি জনসাধারণের জন্য নিরাপদ করার ব্যবস্থা নিতে বলে দিচ্ছি।