স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করে অসুস্থ ১৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করে ১৭ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। মাথা ঘোরা, পেট ব্যথাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের দুধ বিতরণের সময় রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড-এর আরডি ব্র্যান্ডের কয়েকটি প্যাকেটজাত দুধের প্যাকেটে ছিদ্র দেখতে পান শিক্ষকেরা। এ ছাড়া কিছু প্যাকেটের দুধ জমাট বেঁধে দইয়ের মতো হয়ে যাওয়ায় শিক্ষকেরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেনকে জানান এবং হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠান।
সংবাদ পেয়ে ওই কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে এসে নিজে দুধ পান করে দাবি করেন, দুধে কোনো সমস্যা নেই এবং শিক্ষার্থীদের দুধ দিতে বলেন। তবে শিক্ষার্থীরা দুধ পান করার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী পেট ব্যথা, খিঁচুনি ও মাথা ঘোরাসহ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলে, দুধ খাওয়ার পর থেকেই আমার মাথা ও পেট ব্যথা শুরু হয়। আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, দুধ বিতরণের সময় প্যাকেটে ছিদ্র ও জমাট বাঁধার চিত্র দেখে আমরা প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করি এবং দুধ বিতরণ না করার অনুরোধ জানাই। কিন্তু কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন স্কুলে এসে নিজে দুধ খেয়ে সবাইকে খেতে বলেন। এরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. বিমন দেবনাথ জানান, এখন পর্যন্ত ১৬-১৭ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে। তাদের চিকিৎসা চলছে এবং শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। অনেকেই সুস্থ বোধ করছে, তবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, ঘটনা শোনার পরপরই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। তদন্তে কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
