logo
Advertisement

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক কথাবার্তা চলছে: হুমায়ুন কবির

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,সিলেট
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক কথাবার্তা চলছে: হুমায়ুন কবির
সিলেটে কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইমজার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং ভারত সফরের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক কথাবার্তা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।

Advertisement

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটে কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইমজার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান কাভার করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন সাংবাদিকরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বসেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন-তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও এ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক কথাবার্তা চলছে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।

হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের সঙ্গে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কই থাকা উচিত। বাংলাদেশ এখন কোনো নির্দিষ্ট বলয়ে না থেকে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নীতিতে বিশ্বাসী। বেইজিং, ওয়াশিংটন, মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নির্বাচনে জয়লাভ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানে বাংলাদেশের বৈশ্বিক দৃশ্যমানতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সম্পর্ক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ এবং চীনের সঙ্গে টু প্লাস টু সম্পর্কের মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সার্ক ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মক্কা চুক্তি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে৷ এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। জাতীয় ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। মুসলিম বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে এবং মক্কা চুক্তি বা এ জাতীয় উদ্যোগে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বোয়িং কিনতে হবে, এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে, প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব বা গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন বিমান বা ফ্লিট যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। দেশের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক চাহিদা অনুযায়ী বোয়িং বা এয়ারবাস সংগ্রহ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা আছে।

মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি হবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের ফলে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং শ্রমবাজারের নানা সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার কাজ চলছে।

বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছরে জ্বালানি খাত সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি ও অবহেলার শিকার হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই খাতকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে।

জ্বালানি আমদানির বৈচিত্র্যকরণে সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানি আমদানির উৎস আরও বহুমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কলকাতায় বাংলাদেশিদের হোটেল না পাওয়া এবং রাস্তায় রাতযাপন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্পেসিফিক উদাহরণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ভিসা কেন্দ্র এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।