চট্টগ্রামে বাসচালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ

চট্টগ্রামে পরিবহনশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে নগরের কদমতলী এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, সকাল থেকে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বিকেলের দিকে দীর্ঘ সারিতে থাকা বহু শ্রমিক ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে। এতে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জন বৈধ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করা থেকে বঞ্চিত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন এবং একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালান।
শ্রমিকদের দাবি, মোট ৩ হাজার ৫৬১ জন ভোটারের জন্য সুনির্দিষ্ট বুথ ব্যবস্থাপনা করার কথা থাকলেও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি তা করেনি। ফলে সকাল থেকেই কেন্দ্রে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন প্রবীণ ও অসুস্থ শ্রমিকরা।
বিক্ষোভকারী শ্রমিক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, কার্ড ও ভোটার নম্বর ঠিকমতো যাচাই না করেই তড়িঘড়ি করে ভোট নেওয়া হয়েছে। বহু বহিরাগত ও ভুয়া নম্বরের লোককে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও প্রকৃত ভোটারদের ব্যালট দেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশনের কাছে এর ব্যাখ্যার দাবি জানালেও তারা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দেয়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোতোয়ালী, সদরঘাট ও ডবলমুরিং থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
আন্দোলনের কারণে কদমতলী রেলগেট এলাকার দুই পাশেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।



