Advertisement

‘সরকারের দৃষ্টিতে জামায়াতকে ভোট দেওয়া লোকজন এদেশের নাগরিক নন’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নীলফামারী
‘সরকারের দৃষ্টিতে জামায়াতকে ভোট দেওয়া লোকজন এদেশের নাগরিক নন’
ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিঞা গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জনগণের হক মেরে খাওয়ার জন্যই বিরোধী দলকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টিতে যেন জামায়াতকে ভোট দেওয়া লোকজন এ দেশের নাগরিকই নন। তাই তাদের কোনো অধিকারও নেই। শুধু সরকারি দলের ভোটাররাই সরকারের সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।

Advertisement

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের এমপিদের এলাকায় একের পর এক বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হলেও জামায়াতসহ বিরোধী জোটের এমপিদের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে। তাদের প্রাপ্য সাধারণ বরাদ্দ কাটছাঁট করে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষ বরাদ্দের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে লুটেপুটে খাওয়ার নেশায় মেতে উঠেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৫টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে, তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে এসে পৌঁছান। সৈয়দপুর শহরের আল ফারুক একাডেমিতে অনুষ্ঠিত রংপুরের বিভাগীয় আঞ্চলিক কর্মপরিষদ সদস্যদের দুদিনব্যাপী কর্মশালা উদ্বোধন করতেই তার এই আগমন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, রংপুর অঞ্চল সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মমতাজ উদ্দিন, অন্যতম অঞ্চল টিম সদস্য আবদুল হাকিম, নীলফামারী জেলা আমির ও নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুস সাত্তার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং নীলফামারী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আবদুল মুনতাকিম।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক প্রতিযোগিতা চলছে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের মাঝে। যে কারণে ক্ষমতাসীনদের ভেতরেই চরম অন্তর্কোন্দল দেখা দিয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি সংঘাতের ঘটনায়। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, অর্থ গ্রহণ, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির নগ্ন রূপ দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু এ ক্ষেত্রেই নয়, সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও নিজেদের লোক নিয়োগ দিয়ে চরম অনিয়ম-দুর্নীতি করা হয়েছে। একইভাবে সারা দেশে জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার শীর্ষ পদগুলোতে দলীয় নেতাদের বসানো হয়েছে। আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছি। একই সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত দলীয় লোকদের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি করেছি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ সদস্যদের যদি স্বাধীনভাবে ও গোপনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তবে ১১ দল মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন। কিন্তু সংবিধানের অনুচ্ছেদ দলীয় প্রার্থীকে ভোট দিতে সংসদ সদস্যদের বাধ্য করে রেখেছে। এ ধরনের নিয়ম পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এ জন্যই সংবিধান সংস্কার করা দরকার, যা নিয়ে আমরা দাবিও জানিয়েছি। কিন্তু সরকার তা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করছে না। কারণ, গণভোটের রায়কেই তারা মানছে না।

সাবেক এই এমপি বলেন, সরকার মূলত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ঐক্যমত কমিশনে সম্মত হয়েও তারা এখন সংস্কার কমিশন অস্বীকার করছে, অথচ একই অধ্যাদেশের অধীনে নির্বাচন করে সরকার গঠন করেছে। অর্থাৎ যেটিতে তাদের সুবিধা হবে, সেটি মানবে। আর যা করলে দেশ ও জনগণের কল্যাণ হবে, তা করবে না। এমন দ্বিচারিতার কারণেই আগামীতে তাদের ভরাডুবি হবে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই এর প্রতিফলন ঘটবে। তবে তিনি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।