logo

লক্ষ্মীপুরে লাল শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা

লক্ষ্মীপুরে লাল শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পূর্ব চর মনসা গ্রামের ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’-এর জলাশয়জুড়ে ফুটে রয়েছে হাজারো লাল শাপলা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ভোরের আলো ফুটতেই জলাশয়জুড়ে ফুটে ওঠে হাজারো লাল শাপলা। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে লাল পাপড়ি মেলে প্রকৃতিতে ছড়িয়ে দেয় অপরূপ সৌন্দর্য। চারদিকে সবুজের সমারোহ, আর তার মাঝে লাল শাপলার বর্ণিল আভা এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন দূরদূরান্তের প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, আবার কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ছবি তুলে মুহূর্তগুলোকে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখছেন দর্শনার্থীরা।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব চর মনসা গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’ এখন স্থানীয়দের কাছে বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ভবানীগঞ্জ চৌরাস্তা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বে ভবানীগঞ্জ-কুশাখালী-নোয়াখালী সড়কের পাশেই বাগানটির অবস্থান।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে এই বাগান। প্রায় তিন বছর আগে নিজের ১৪৩ শতাংশ জমিতে জলাশয় খনন করে বরিশালের উজিরপুর থেকে লাল শাপলার কন্দ এনে রোপণ করেন তিনি। শুরুতে কেবল শখের বশে উদ্যোগটি নিলেও ধীরে ধীরে তা ভ্রমণপিপাসু মানুষের প্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

বাগানের শাপলাগুলো ভোর থেকেই ফুটতে শুরু করে। বিশেষ করে সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ফুলের সৌন্দর্য সবচেয়ে ভালো উপভোগ করা যায়। এই সময়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও থাকে সবচেয়ে বেশি। দর্শনার্থীদের বসার জন্য বাগানের চারপাশে বেঞ্চসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে রকমারি খাবারের স্টল। ফলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানোরও চমৎকার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

তবে এই উদ্যোগের পেছনে কেবল সৌন্দর্যবর্ধন বা বিনোদনের চিন্তা নয়, রয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতার ভাবনাও। এলাকার তরুণদের অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি ও মাদকের হাত থেকে দূরে রেখে প্রকৃতির প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং মানুষের মধ্যে সুন্দর রুচিবোধ তৈরি করাও উদ্যোক্তার অন্যতম উদ্দেশ্য। তিনি চান, মানুষ অবসর সময়ে কৃত্রিম পরিবেশ ছেড়ে প্রকৃতির কাছে আসুক এবং নির্মল পরিবেশে সময় কাটাক।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইস্রাফিল বলেন, শাপলা বাগানটি এই এলাকায় অত্যন্ত মনোরম একটি পরিবেশ তৈরি করেছে। প্রতিদিন সকালেই অনেক নারী-পুরুষ এখানে ঘুরতে আসেন। আশপাশে এমন সুন্দর পরিবেশ না থাকায় দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন।

কলেজশিক্ষার্থী ফুহাদ হাসান বলেন, বাগানটি চমৎকার একটি প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন অনেকেই এখানে আসেন। তবে কিছু দর্শনার্থী শাপলা ফুল ছিঁড়ে ফেলছেন, যা একদমই ঠিক নয়। এতে বাগানের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। সবাই সচেতন হলে জায়গাটি আরও বেশি সুন্দর থাকবে।

বাগানের উদ্যোক্তা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিজের শখ থেকেই বাগানটি করেছিলাম। আমার এই উদ্যোগে মানুষের মাঝে ভালো লাগা তৈরি হচ্ছে দেখে সত্যি আনন্দ লাগে। আমাদের এই অঞ্চলে দেখার মতো খুব বেশি জায়গা নেই। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। এলাকার তরুণ সমাজ যেন মোবাইল ও মাদকের আসক্তি থেকে দূরে থেকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে পারে, সেটিও আমার অন্যতম লক্ষ্য ছিল। বাগানটি এখন বহু মানুষের ভালোবাসার জায়গায় পরিণত হয়েছে, যা আমাকে ভীষণ তৃপ্তি দেয়।

তিনি আরও জানান, দর্শনার্থীদের বিনোদনের সুযোগ আরও বাড়াতে বাগানটিকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন নতুন বিষয় সংযোজন করে স্থানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চান তিনি।

আসিফ আল আজাদ

সম্পাদনা

আসিফ আল আজাদ

সহ-সম্পাদক | এশিয়া পোস্ট