গৃহবধূর কাটা মাথা উদ্ধার, আটক নারী শিশু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফরিদা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে হত্যার পর খণ্ডিত মরদেহ পলিথিনের ব্যাগে ভরে ফেলে রাখার ঘটনায় মরদেহের মাথা ও অন্যান্য অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গৃহবধূর বাড়ির নতুন ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ রেকর্ডে জানা গেছে, আটক লাইলী বেগমের বিরুদ্ধে এর আগেও একটি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের নভেম্বরে দেবীদ্বারে আমির হোসেনের সাত বছর বয়সি শিশুকন্যা ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
রোববার (৯ আগস্ট) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর (মোহনা আবাসিক এলাকা) এলাকার একটি ডোবা থেকে ফরিদা বেগমের কাটা মাথাসহ শরীরের আরও কিছু খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, গতকাল শনিবার বিকেলে ওই বাড়ির পেছন থেকে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের নয়টি খণ্ডাংশ উদ্ধার করেছিল দেবীদ্বার থানা পুলিশ।
নিহত ফরিদা বেগম দেবীদ্বারের ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। তিনি স্বামী ও সন্তানদের থেকে আলাদা হয়ে একা ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। তার স্বামী পেশায় জাহাজের কর্মী এবং চট্টগ্রামে কর্মরত। বিবাহিত দুই মেয়ের সংসারে এক ছেলে থাকলেও কয়েক বছর আগে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হাঁটতে বের হন ফরিদা বেগম। দীর্ঘ সময় পর বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরে বিকেলে নিহতের ভাগনে মামুন বাড়ির পেছনে সন্দেহজনক কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। প্যাকেটগুলো খুলে মরদেহের খণ্ডাংশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে নয়টি প্যাকেটে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সন্দেহের তির যায় ১ আগস্ট বাড়িতে কক্ষ ভাড়া নেওয়া লাইলী বেগমের দিকে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে মারধর করে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাইলীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে জানান, আটক লাইলী বেগম হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং আরও চারজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তার দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
.png)



