‘মামলা শেষ’ করে দিতে আসামির কাছে ‘খরচাপাতি’ দাবি

‘তাদের যোগাযোগ করতে বলো। খরচাপাতি দিলে হালকাপাতলা করুম। যোগাযোগ না করলে কিন্তু ‘প্যাচকি’ (ঝামেলা) বাজাইয়া দেব। এটা আমি ডাইরেক্ট বললাম।’
শুনে যে কারও মনে হবে কথাগুলো প্রভাবশালী কেউ বলছেন। ঘটনা তেমনই। এটি পুলিশের এক কর্মকর্তার কণ্ঠসদৃশ কথোপকথনের অডিও রেকর্ড। সম্প্রতি অডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশের ওই কর্মকর্তার নাম তাজুল ইসলাম। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত। তার কণ্ঠসদৃশ অডিওটি এক মিনিট ১৯ সেকেন্ডের। যেখানে কোনো মামলার আসামির সঙ্গে ফোনে কথা বলতে শোনা যায় তাকে।
অডিওতে যা আছে
অডিওতে এসআই তাজুল ইসলামের কণ্ঠে শোনা যায়, ‘তাদের যোগাযোগ করতে বল। খরচাপাতি দিলে হালকাপাতলা করুম। যোগাযোগ না করলে কিন্তু প্যাচকি (ঝামেলা) বাজাইয়া দেব। এটা আমি ডাইরেক্ট বললাম। যোগাযোগ করলে মামলা কোর্টে গেলে শেষ হয়ে যাবে। আমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বলো। একটু পরে আমি তোমাদের এলাকায় আসছি।
অপরপ্রান্ত থেকে জবাব আসে–ভাই জালাল, বারেক ওদের কাছে তো আপনার নাম্বার আছেই। তাদের বলব যোগাযোগ করতে।
তাজুল বলেন, তুমিও যোগাযোগ করো। তুমিও কিছু করো।
তখন জবাব আসে, ভাই আপনি তো তদন্ত করে দেখছেন, এখানে আমার কোনো দোষ নেই।
ঘটনা আসলে কী
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলা আসামির নাম জাকির মোড়ল। তিনি একটি মানহানি মামলার ৩ নম্বর আসামি। মামলাটি করেছেন শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কাশিজুলী গ্রামের মো. হযরত আলী।
গত ২৩ এপ্রিল গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন শ্রীপুর থানার এসআই তাজুল ইসলাম।
অডিওটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে দাবি করে এসআই তাজুল ইসলাম বলেন, আসামির সঙ্গে এ ধরনের কোনো যোগাযোগ হয়নি।
এ বিষয়ে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, অডিওটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রমাণিত হলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
