স্ট্রিট লাইট অকার্যকর, নিরাপত্তাহীনতায় সীমান্ত সড়ক

শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য স্থাপিত সোলার স্ট্রিট লাইটগুলোর অধিকাংশই এখন আর কার্যকর নেই। কোথাও সোলার প্যানেল চুরি হয়েছে, কোথাও বাতি কিংবা খুঁটি উধাও হয়ে গেছে। ফলে রাত নামলেই অন্ধকারে ঢেকে যায় গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সড়ক। আর এতে বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি।
প্রকল্পের তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলা পরিচালনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ি বাজার থেকে মেঘাদল বাজার পর্যন্ত সড়কে ৩১টি সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপন করা হয়। এতে সরকারের ব্যয় হয় প্রায় ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের রাতের যাতায়াতকে নিরাপদ ও সহজ করা। কারণ, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার হাজারো বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। তবে প্রকল্প চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই একে একে বেশিরভাগ সোলার লাইট অকেজো হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব বাতি ও সোলার প্যানেল চুরি হলেও কার্যকর কোনো নজরদারি বা পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে পুরো সড়কে তিনটি বাতি ছাড়া অধিকাংশই অচল অবস্থায় রয়েছে।
মেঘাদল বাজার এলাকার বাসিন্দা জলিল মিয়া বলেন, শুরুতে সোলার বাতিগুলো মানুষের অনেক উপকারে এসেছিল। রাতে চলাচল সহজ ও নিরাপদ ছিল। কিন্তু এখন প্রায় সব বাতিই নষ্ট বা চুরি হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর সড়কজুড়ে অন্ধকার নেমে আসে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আওলাদ হোসেন বলেন, পর্যাপ্ত আলো না থাকায় অপরাধীদের তৎপরতা বাড়ছে। রাতে একা চলাচলে মানুষ আতঙ্ক অনুভব করে। বিশেষ করে নারী, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে।
বালিজুড়ি এলাকার হোসেন আলী বলেন, জনগণের টাকা দিয়ে এগুলো লাগানো হলো, এরপর দেখাশোনা না থাকায় বাতিগুলো নষ্ট হলো, এখন চুরি হয়েছে। তাই সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত সোলার বাতিগুলো পুনঃস্থাপনের অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, সীমান্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত টেকসই ও নিরাপদ সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে চুরি বা নাশকতা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
.png)

