logo

ধর্ষণ মামলায় পদচ্যুত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, নেত্রকোনা
ধর্ষণ মামলায় পদচ্যুত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ
মোহন তালুকদার। ছবি : সংগৃহীত

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় অবশেষে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন দল থেকে সদ্য পদচ্যুত হওয়া স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোহন তালুকদার।

শনিবার (২০ জুন) সকালে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন তথ্যটি এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১টার দিকে সশরীরে মোহনগঞ্জ থানায় তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

গ্রেপ্তার মোহন তালুকদার (২৫) মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তিনি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।

গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই লোমহর্ষক ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম ও সদস্যসচিব নাজমুল হুদা খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মোহন তালুকদারকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এদিকে পুলিশ হেফাজতে যাওয়ার আগে মোহন তালুকদার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, আমার সম্পর্কে যে অভিযোগটা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, সেটি বানোয়াট। আমি মোহনগঞ্জ থানার প্রতি বিশ্বাস রেখে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করছি। আইনের কাছে আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।

তবে এর আগে, এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত মোহন তালুকদারকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি মোহনগঞ্জ থানা-পুলিশ।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা স্থানীয়ভাবে বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। মামলায় শিশুটিকে কিছুটা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী মোহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলা ও দলবদ্ধ ধর্ষণের হুমকি দেওয়ায় শিশুটি দীর্ঘদিন ঘটনাটি গোপন রাখে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে ধর্ষণের কথা জানায়। পরবর্তীতে ১৩ মার্চ একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করালে রিপোর্টে ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়। পরে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করার নির্দেশ দিলে গত ২ মে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মোহন তালুকদারকে কৌশলগতভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।