সিলেটে হাম উপসর্গে এক দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এক দিনে এর আগে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি সিলেটে। এই নিয়ে বিভাগে এখন পর্যন্ত ৪৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের দৈনিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, মারা যাওয়া দুই শিশু সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, দুজন সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে একজন চিকিৎসাধীন ছিল।
এর মধ্যে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের আব্দুল মালিকের পাঁচ মাস বয়সী রাইসা ও সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইশাক আলীর সাত মাস বয়সী আলী আফসান সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের মোসাদ্দিক মিয়ার ১০ মাস বয়সী মেয়ে মুসলিমা ও সিলেট সদরের শিববাড়ী এলাকার বাহরাম আহমদের এক বছর দুই মাস বয়সী ছেলে মো. রাশেদ আহমেদ মারা যায় সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়াও সুনামগঞ্জের ২৫০ বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ বছর ২ মাস বয়সী শামিমার মৃত্যু ঘটেছে। এটি সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বয়সী কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ২৮৩ জন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮০ ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৯ জন চিকিৎসা নিচ্ছে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুনির ওমর রাশেদ জানান, হামের প্রকোপ বাড়ায় ওসমানী হাসপাতালে ২০টি ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪টি আইসিইউ বেড সংযোজন করা হয়েছে।
মারা যাওয়া ৪০ জনের মধ্যে ৪ জন নিশ্চিত হামে ও ৩৬ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। আর গত পাঁচ মাসে নিশ্চিতভাবে হাম রোগে মারা গেছে ৪ জন। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও নিশ্চিত হাম ধরা পড়েনি। কারও কারও নমুনা এখনও পরীক্ষার জন্য ল্যাবে রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৫৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।
