logo

পদ্মায় ধরা পড়ল ১৭ কেজির পাঙাশ

পদ্মায় ধরা পড়ল ১৭ কেজির পাঙাশ
পদ্মায় ধরা পড়া ১৭ কেজি ওজনের পাঙাশ মাছটি। ছবি : এশিয়া পোস্ট

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীর মোহনায় দীর্ঘদিন পর জেলের জালে ধরা পড়েছে বড় আকারের দুটি পাঙাশ মাছ। এর একটির ওজন ১৭ কেজি এবং অপরটির ওজন ৮ কেজি। ১৭ কেজির বড় পাঙাশটি নিলামে ৩৭ হাজার ৪০০ টাকায় কিনে ৩৯ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রির জন্য দরদাম করছেন এক মৎস্য ব্যবসায়ী।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরের পর পদ্মা নদীর মজলিশপুর এলাকার মোহনায় জেলে নিরঞ্জন হালদার ও তার সঙ্গীদের জালে মাছ দুটি ধরা পড়ে।

জেলে সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের জাফরগঞ্জ এলাকার জেলে নিরঞ্জন হালদারসহ কয়েকজন মঙ্গলবার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ভাটিতে পদ্মা নদীতে জাল ফেলেন। স্রোতের সঙ্গে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার ভাটিতে যাওয়ার পর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মজলিশপুর এলাকায় নদীতে জালে বড় ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। জাল গুটিয়ে তুলতেই আটকা পড়া দুটি পাঙ্গাশ মাছ দেখতে পান তারা।

পরে জেলেরা দৌলতদিয়া ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিকেল ৩টার দিকে মাছ দুটি দৌলতদিয়া বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের প্রয়াত সভাপতি মোহন মণ্ডলের আড়তে আনা হয় এবং সেখানে উন্মুক্ত নিলামে তোলা হয়।

নিলামে দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার ‘সুমাইয়া মৎস্য আড়তে’র স্বত্বাধিকারী সোহেল মোল্লা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১৭ কেজি ওজনের পাঙাশটি ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে মোট ৩৭ হাজার ৪০০ টাকায় কেনেন। একইভাবে ৮ কেজি ওজনের মাছটি ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে ১৪ হাজার ৪০০ টাকায় কেনেন তিনি।

মাছ দুটি কেনার পর বিক্রির উদ্দেশ্যে দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বড় মাছটি ঢাকার এক ক্রেতার কাছে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা লাভে ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে মোট ৩৯ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রির আলোচনা চলছে।

মৎস্য ব্যবসায়ী সোহেল মোল্লা জানান, নিলামে সর্বোচ্চ দর দিয়ে মাছ দুটি কিনেছেন তিনি। বড় পাঙাশটির জন্য ঢাকার এক ক্রেতার সঙ্গে কথা চলছে। দরদাম চূড়ান্ত হলেই এটি বিক্রি করা হবে। একইভাবে ৮ কেজির মাছটিও কেজিপ্রতি ১০০ টাকা লাভে বিক্রির চেষ্টা করছেন।

তিনি আরও জানান, পদ্মা নদীতে বর্তমানে বড় মাছের সংকট চলছে। প্রায় দুই মাস পর পদ্মায় ১৭ কেজি ওজনের বড় পাঙাশ ধরা পড়ল। ইদানীং নদীতে বড় মাছের দেখা মিলছেই না। যেসব ছোট মাছ ধরা পড়ছে, সেগুলোর অনেকটাই নদীপথেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।