logo

সাংবাদিকের প্রশ্নে মন্ত্রী বললেন ‘তুমি বেশি কথা বলো’

সাংবাদিকের প্রশ্নে মন্ত্রী বললেন ‘তুমি বেশি কথা বলো’
লালমনিরহাটে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ছবি: এশিয়া পোস্ট

আলোকিত লালমনিরহাট আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস কবে চালু হবে’ সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘তুমি বেশি কথা বলো।’ বক্তব্য প্রদানকালে মন্ত্রীর এ মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) থেকে এ নিয়ে জেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজু বলেন, আমি মঞ্চে ওঠার পর বুড়িমারী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে ত্রাণমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছিলাম। কিন্তু তিনি সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো আমাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুমি বেশি কথা বলো’।

জানা গেছে, বুড়িমারী একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর, যা ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য পরিচালনা করে। লালমনিরহাট, পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা অঞ্চলের হাজার হাজার ব্যবসায়ী, দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থী, মুমূর্ষু রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের ঢাকায় দ্রুত ও নিরাপদে যাতায়াতের জন্য সরাসরি বুড়িমারী থেকে এক্সপ্রেস ট্রেনটি অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা-লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলেও বর্তমানে ঢাকার সঙ্গে মূল ট্রেনটি লালমনিরহাট স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াত করে। আর বুড়িমারী অংশে একটি শাটল ট্রেনের মাধ্যমে যাত্রীদের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি বুড়িমারী স্টেশন থেকেই সরাসরি ট্রেন ছাড়তে হবে। এ নিয়ে বুড়িমারী থেকে সরাসরি ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা, পাটগ্রাম-হাতীবান্ধার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস বাস্তবায়ন কমিটি’ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। তারা একাধিকবার মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও নানা স্তরের কর্মসূচি পালন করেছিলেন। নির্বাচনের আগে এটি চালু করার আশ্বাস দিয়েছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। যে কারণে এই অঞ্চলের মানুষের দাবি কারণে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন।

সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সামাজিক আন্দোলনের কার্যক্রম সরাসরি দেখতে লালমনিরহাট সফর করবেন। এই সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে লালমনিরহাট জেলাকে মাদক, জুয়া, ক্যাসিনো, যৌতুক ও বাল্যবিবাহমুক্ত করা হবে এবং লালমনিরহাট সারা দেশের জন্য একটি রোল মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

গতকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সাহেব ডাঙা স্টেডিয়াম মাঠে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির পাটগ্রাম উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। এই আন্দোলনের জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও, স্থানীয় নেতৃত্ব, ব্যক্তি, শিক্ষক, ইমাম, ছাত্র, সাংবাদিক, খেলোয়াড় ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা যুক্ত রয়েছে।

পাটগ্রামের সাহেব ডাঙা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক এবং পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার। এতে পাটগ্রাম উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৮১টি ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ দিকে লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসনের সংসদ সদস্য মো. রোকন উদ্দীন বাবুলকে বাদ দিয়ে এবং তার সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারীদের প্রাধান্য দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করায় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তৃণমূলের প্রবীণ নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যের সমর্থকদের অভিযোগ, আসনটির নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে এভাবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের নিজস্ব অনুসারীদের নিয়ে এককভাবে কমিটি গঠন করার ফলে দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এ নিয়ে বর্তমানে লালমনিরহাট-২ আসনের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির মাঠে ব্যাপক অসন্তোষের গুঞ্জন চলছে।