গণভোটের রায় বাংলার জমিনে এক দিন বাস্তবায়ন হবেই: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। সরকারি দল অবজ্ঞা করেছে। জামায়াত এই কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না। সংসদের ভেতরে-বাইরে লড়াই চালিয়ে যাবে। বাংলার জমিনে এক দিন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হবেই। গণভোটের রায় অপমানে, অবহেলায় পরিত্যক্ত হবে না।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে রংপুর বিভাগীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ৪২টা জেলায় তারা (সরকার) প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যখন দেশ এগোচ্ছে, তখন কেন প্রশাসক নিয়োগ দিতে হবে। দলীয় লোক দেখে কেন দিতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন করে জনগণ যাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদেরকেই আবার বড় বড় জায়গায় বসিয়েছে। এটা কী জনগণের সঙ্গে তামাশা নয়।
তিনি বলেন, রংপুর এলাকার মানুষ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ন্যূনতম পাওনাটুকু সরকারের কাছে পায়নি। এরশাদ সাহেব যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন তিনি বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশার উন্নয়ন ঘটিয়েছিলেন। তার আগে বা পরের সরকারগুলো এলাকার মানুষের সঙ্গে ইনসাফ করেনি। বাংলাদেশকে যদি আমরা ইকনোমিক্যাল ডেমোগ্রাফির দিক দিয়ে আলাদা করি, সবচেয়ে অনগ্রসর এলাকা কোনটি–সেই এলাকার নাম হচ্ছে উত্তরবঙ্গ।
ভালো কাজ করলে সরকারকে শুধু সমর্থন নয়, সহযোগিতা করা হবে উল্লেখ করে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যদি মন্দ কাজ করে, অপকর্ম করে, তাহলে রুখে দাঁড়াব। ছাড় দেব না কাউকে। জ্বালানি নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছিল, আমরা নোটিশ দিলে আলোচনা করার জন্য সরকারি দল ভয় পায়। এখানে আলোচনা করতে দেবে না। আলোচনা করতে গেলে যদি কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসে। এই ভয়ে তারা কথা বলতে দেবে না।
তিনি বলেন, পরে সরকার বাধ্য হলো, আমাদেরকে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার। একটি অর্থবহ আলোচনা হলো। আমাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী এই বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য একটি যৌথ কমিটি চায়। সরকার দল থেকে পাঁচজনের নাম ঘোষণা করা হয়। আমরা পাঁচজনের নাম দিলাম, দুই দিনের ভিতরে পুরো বাংলাদেশের চিত্রই বদলে গেল।
তিনি বলেন, কেন বদলে গেল। কেউ কেউ বলতে থাকল এটা আর্টিফিসিয়ালি (কৃত্রিমভাবে) করা হয়েছিল। জামায়াত উসকিয়ে দিয়েছিল। আমি সংসদে দাঁড়িয়ে এই বিষয়ে বলেছিলাম, স্পিকার এটা বার্তা দিচ্ছে, ভালো কাজে যদি সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে কাজ করে তাহলে এ জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন অবশ্যই ঘটবে। সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলেমিশে কাজ করলে জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে। এই আস্থার কারণেই তেলের সমস্যা দুই দিনের মধ্যেই মিটে গেছে। আমরা সেই আস্থার রাজনীতি চাই।
জামায়াত আমির বলেন, ইতোমধ্যে বহু জায়গায় সরকারি দল উল্টাপাল্টা করে ফেলেছে। তারা গণভোটকে অগ্রাহ্য করেছে। একটা বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে জ্ঞানের চর্চা হবে, আমাদের সন্তানগুলো মানুষ হবে, সেখানে এখন দলীয় ভিসি, প্রোভিসি, প্রভোস্টসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কারও পরিকল্পনা ফাইনাল নয়, এটা যদি ফাইনাল হতো অতীতের সরকার সাড়ে ১৫ বছর সুন্দর করে পরিকল্পনা সাজিয়ে ছিল, কিন্তু দুই দিনের মাথায় সবকিছু তছনছ হয়ে গিয়েছে।
রংপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, আপনাদের সন্তান সেই আন্দোলনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। এখন স্লোগান দিতে গেলে আবু সাঈদকে মাইনাস করে কোনো স্লোগান বাংলাদেশে দেওয়া হবে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোন আশঙ্কা আছে কি না–এমন প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, দুইটা উপনির্বাচন হয়েছে; একটি শেরপুরে, একটি বগুড়ায়। সেখানকার ঘটনা আপনারা দেখেছেন। আমরা শংকিত আদৌ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না। আমরা জনগণকে অনুরোধ করব, তারা যেনে আরেকবার সচেতন হন। সকল রোগের ওষুধ হচ্ছে জনগণের ম্যান্ডেট। জনগণ জাগলে সব ঠিক হবে।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পদ্মা ব্যারেজের উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু এটা তিস্তার বিনিময়ে নয়। তিস্তার জায়গায় অবশ্যই তিস্তাকে তার পাওনা দিতে হবে। তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে। এর বিন্দু পরিমাণ ব্যতিক্রম করা যাবে না।
এর আগে সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছলে ফুল দিয়ে জামায়াত আমিরকে শুভেচ্ছা জানান রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত এমপি ও নেতাকর্মীরা। সড়কযোগে রংপুর সার্কিট হাউসে উপস্থিতির পরে সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর মডেল কলেজে রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের উপজেলা জামায়াত আমির ও সেক্রেটারিদের সমাবেশে তিনি উপস্থিত হন। এরপর সার্কিট হাউজে বিশ্রাম ও জুমার নামাজ শেষে বিকেল ৫টায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জামায়াত আমির রংপুর সার্কিট হাউস থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে বিমানযোগে ঢাকার বাসভবনে প্রত্যাবর্তন করবেন।
