বিল পরিশোধের পরই ধসে পড়ল কালভার্টের সংযোগ সড়ক

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের মালুহার এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বাস্তবায়িত একটি কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়কের ইটের সলিং কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দেবে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টের উভয় পাশের সংযোগ সড়কের ইটের সলিং বিভিন্ন স্থানে বসে গেছে। কোথাও কোথাও ইট উঠে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীদের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত মাটি ভরাট ও সঠিকভাবে কম্প্যাকশন করা হয়নি। এ ছাড়া কালভার্টের কিছু অংশে প্রয়োজনীয় প্লাস্টার ও ফিনিশিংয়ের কাজ সম্পন্ন না করেই রং করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বিএডিসি ঝালকাঠি জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নলছিটি উপজেলার মালুহার এলাকায় সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কালভার্টটি নির্মাণের জন্য ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৫৪০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শুরু হয়ে জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের বিপরীতে ২৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিনাজপুরের রামনগরের তারমিন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব সাব-ঠিকাদার হিসেবে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ হাসানকে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা করিম, আবু, হানিফ ও রহিমসহ অনেকে জানান, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি স্থাপনা অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নির্মাণকাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তারা প্রকল্পটির নির্মাণকাজ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিএডিসি ঝালকাঠির সহকারী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কী কারণে এমন হয়েছে তা তদন্ত করা হবে। নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সাব-ঠিকাদার এজাজ হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, কাজ যথাযথভাবেই করা হয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে হয়ত সংযোগ সড়কের অংশ ধসে পড়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত এ প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও নির্মাণ মান নিশ্চিত করতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
.png)






