logo

বারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আদালতে শুনানি, ৩ আইনজীবীকে শোকজ

বারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আদালতে শুনানি, ৩ আইনজীবীকে শোকজ
বগুড়া জেলা জজ আদালত। ছবি : এশিয়া পোস্ট

বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তিন আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বার সমিতির সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শোকজ পাওয়া তিন আইনজীবী হলেন অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রুবেল, অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা (মজনু) ও অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব।

বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর বার সমিতির সাধারণ সভায় বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামানের আদালত বর্জন এবং ওই আদালতে মামলার শুনানি থেকে বিরত থাকার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়।

তবে সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে ২৩ সেপ্টেম্বর ফৌজদারি মিস মামলার শুনানিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাসে অংশ নেন ওই তিন আইনজীবী। এ কারণেই তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, বার সমিতির সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা (মজনু) সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মারমুখী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে কেন তাদের বারের সদস্যপদ বাতিল করা হবে না, নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে তার উপযুক্ত কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

শোকজ পাওয়ার বিষয়ে আইনজীবীদের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি একটি ফৌজদারি মিস মামলার শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। তার দাবি, বার সমিতির আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত থাকলেও ওই দিন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বয়ং আদালতে উপস্থিত থেকে বিচারককে এজলাসে বসিয়ে শুনানির অনুমতি দিয়েছিলেন।

অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব আরও বলেন, ২০১৭ সালের রেজুলেশন অনুযায়ী যে কোনো আদালত বর্জনের আগে ৩০ দিনের আলটিমেটাম দেওয়ার বিধান রয়েছে। এবার সেটিও মানা হয়নি। এসব বিষয় বিবেচনা করেই আমি শুনানিতে অংশ নিয়েছি। শোকজের জবাবে আমরা এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেব।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ রেজাউর রহমান বলেন, তারা বারের নির্দেশ অমান্য করে বিচারকের পক্ষে কাজ করছেন। তাই বারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।