দুই সরকারি প্রাথমিক স্কুলে তালা, ১১ শিক্ষককে শোকজ

কক্সবাজারের টেকনাফে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলতে দেখে দুই বিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। বিদ্যালয় দুটিতে পরিদর্শনে গিয়ে কোনো শিক্ষক, কর্মচারী বা শিক্ষার্থীকে দেখতে না পেয়ে তিনি প্রশাসনিক এমন পদক্ষেপ নেন।
বিদ্যালয় দুটি হলো, উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের হরিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লাতুরীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় দুটির প্রধান শিক্ষক যথাক্রমে আলী আকবর সাজ্জাদ ও নাসিমা আক্তার।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. আবদুল্লাহ।
কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে সরেজমিনে বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ সময় কোনো প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, কর্মচারী বা শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের সব শ্রেণিকক্ষও তালাবদ্ধ ছিল।
নোটিশে আরও বলা হয়, বিদ্যালয় এভাবে তালাবদ্ধ রেখে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিত থাকা সরকারি বিধি লঙ্ঘনের শামিল। কর্তব্যে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক ও তাদের অধীন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে না, তার কারণ তিন কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাব যুক্তিযুক্ত না হলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘অনেক সময় শিক্ষকরা নিয়ম না মেনে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন এবং দুপুরের পর ছুটি দিয়ে চলে যান, এমন অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়ে কাউকে না দেখে ১১ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সবাইকে নিয়ম মেনে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে।’



