সরকারি অফিসে কেউ নেই, দিনভর চলল এসি!

সারা দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির বাস্তবতায় পাবনার ফরিদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চিত্র দেখা গেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাউকে অফিসে না পাওয়া গেলেও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একটি কক্ষে অবিরাম শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) চলতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় সরকারি বিদ্যুৎ ও সম্পদের চরম অপচয় নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের অনিয়ম, ভেজাল খাদ্যসহ স্থানীয় নানা বিষয়ে বক্তব্য নিতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত পিআইও কার্যালয়ে যান। এ সময় পিআইওর কক্ষটি খোলা অবস্থায় ছিল এবং ভেতরে এসি চলছিল। তবে কার্যালয়ের অন্য কোনো কক্ষেও কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকেরা জানান, পিআইও মানিকুজ্জামানের বক্তব্য পেতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। দিনভর তাকে কার্যালয়েও পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইমামা বানিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকেও কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি এবং ফোনেও সাড়া মেলেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী বলেন, ফরিদপুরে অবৈধ চায়না জালের কারখানা, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম, কোটি টাকার ব্রিজের কাজ অসমাপ্ত থাকা এবং ভেজাল খাদ্য প্রস্তুতের মতো গুরুতর বিষয়ে বক্তব্য নিতে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়েছিলাম। কিন্তু গিয়ে দেখি পুরো অফিস ফাঁকা, অথচ একটি কক্ষে এসি দিব্যি চলছে। সেটি বন্ধ করার মতো কোনো লোকও সেখানে ছিল না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফরিদপুরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ সেবা নিতে গেলে অফিসে কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না, আবার দেখা মিললেও সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এ ছাড়া এলাকায় অবাধে অবৈধ চায়না জালের কারখানা ও ভেজাল খাদ্য প্রস্তুত চললেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তাদের আরও দাবি, উপজেলায় শতাধিক নকল ঘি ও দুধ তৈরির কারখানা থাকলেও রহস্যজনক কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো হয় না। অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এসব অপকর্ম চলছে।
বিদ্যুৎ অপচয় ও কার্যালয়ে অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মানিকুজ্জামান ও ইউএনও উম্মে ইমামা বানিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের তাগিদ রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা না থাকলে নিরাপত্তার স্বার্থে বড়জোর একটি বাতি জ্বলতে পারে, কিন্তু এসি চলার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
.png)


