logo

ইতিহাস ও প্রকৃতির মেলবন্ধন, পর্যটকদের মন কাড়ছে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার

ইতিহাস ও প্রকৃতির মেলবন্ধন, পর্যটকদের মন কাড়ছে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার
ছবি: এশিয়া পোস্ট

যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে সপ্তাহের ছুটি কাটানোর জন্য দারুণ এক ঠিকানা হয়ে উঠেছে উত্তরের সীমান্ত জেলা নওগাঁ। প্রাচীন বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের এক সমৃদ্ধ চারণভূমি এই জনপদ। দেশের প্রাচীন সভ্যতাকে কাছ থেকে দেখতে এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নওগাঁ হতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

নওগাঁর প্রত্নতাত্ত্বিক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, যা ঐতিহাসিকভাবে ‘সোমপুর বিহার’ নামে পরিচিত। নওগাঁ সদর থেকে ৩৪ কিলোমিটার উত্তরে বদলগাছী উপজেলায় এবং জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে এর অবস্থান। পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল অষ্টম শতকে বরেন্দ্র ভূমিতে এই বিশাল বিহারটি নির্মাণ করেন।

দীর্ঘদিন জঙ্গলাকীর্ণ অবস্থায় থাকার পর ১৯২৩ থেকে ১৯৩৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে খননকাজের মাধ্যমে এই সভ্যতার উন্মোচন ঘটে। ২৭ একর জায়গার ওপর নির্মিত এই বিশাল চতুষ্কোণ বিহারটি মূলত একটি দুর্গের মতো সুরক্ষিত ছিল। বৌদ্ধভিক্ষুদের থাকার জন্য এর চারদিকে ১৭৭টি কক্ষ রয়েছে। প্রধান মন্দিরের দেয়ালে ৩৬টি পাথরের মূর্তি এবং ভেতরের দেয়ালে প্রায় দুই হাজার পোড়ামাটির চিত্রফলক (টেরাকোটা) রয়েছে।

প্রাচীনকালে সোমপুর বিহার শুধু উপাসনালয়ই ছিল না, এটি ছিল উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়। তৎকালীন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে জ্ঞান অর্জন করতে আসতেন। বিখ্যাত পণ্ডিত আচার্য অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান এখানে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। এ ছাড়া চর্যাপদের গীতিকার কাহ্নপা এবং তার গুরু জলন্ধরী পার (হাড়ী পা) স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বিদ্যাপীঠের সঙ্গে। বর্তমানে এখানকার উদ্ধারকৃত প্রত্নবস্তু নিয়ে একটি সমৃদ্ধ জাদুঘর এবং পর্যটকদের জন্য বাংলো তৈরি করা হয়েছে।

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাহাড়পুরে পর্যটক সমাগমে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এই সময়ে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯১০ জন দেশি পর্যটকের পাশাপাশি ১ হাজার ৯৪৪ জন বিদেশি পর্যটক এই বিহার পরিদর্শন করেছেন। এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে রেকর্ড ১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ৫৪৪ টাকা, যা পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়।

চলতি অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব আগামী জুন মাসে সম্পন্ন হবে। সামনে ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়পুরে ব্যাপক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। পর্যটকদের বরণ করে নিতে এরই মধ্যে বিহার প্রাঙ্গণে আলোকসজ্জা এবং পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঈদের দিন বিহারটি বন্ধ থাকলেও, ঈদের পরদিন থেকে সাধারণ দর্শনার্থী ও পর্যটকদের জন্য এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকবে।