সংরক্ষিত বনের গাছ বিট কার্যালয়ের রান্নাঘরে

বরগুনার তালতলী উপজেলায় টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে রান্নার লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে নলবুনিয়া বিট কর্মকর্তা মো. শাওনের বিরুদ্ধে। বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা।
নলবুনিয়া বিট কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী পর্যটন কেন্দ্র ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকতের বনাঞ্চলের নলবুনিয়া বিট কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বিট কার্যালয়ের রান্নাঘরে সেই কাঠ চুলার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে রান্না করতেও দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনের গাছপালা রক্ষা করার দায়িত্ব যাদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে, তাদের হাত দিয়েই যদি নিয়মিত এভাবে গাছ উজাড় হয়, তবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংসের মুখে পড়বে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমান বলেন, সরকার যেখানে সারা দেশে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছে, সেখানে বন বিভাগ নিজেই উল্টো বনের মূল্যবান গাছ জ্বালানি কাঠ হিসেবে চুলায় পোড়াচ্ছে। যাদের ওপর বন সুরক্ষার দায়িত্ব, তারাই যদি রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে, তবে কোনোভাবেই বন ও পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়।
বনের গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করলেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি নলবুনিয়া বিট কর্মকর্তা মো. শাওন। উল্টো সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন তিনি।
এ বিষয়ে বন বিভাগের বরগুনা কার্যালয়ের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন ভূঞা বলেন, গাছগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।