শরীয়তপুরের পিপি কামরুল হাসানকে শোকজ

আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন না করা, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া এবং বিচার কার্যক্রম চলাকালে অসদাচরণের অভিযোগে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের (জিপি-পিপি শাখা) সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত নোটিশে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলো সুষ্ঠু ও দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের যথাসময়ে আদালতে উপস্থিত করা এবং বিচার কার্যক্রমে সহযোগিতা করা পাবলিক প্রসিকিউটরের দায়িত্ব। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রাপ্ত কাগজপত্র এবং গত ২১ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন গণ-মাধ্যমে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পিপি কামরুল হাসানের দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে পিপির বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত তারিখে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা উপস্থিত থাকলেও তাদের আদালতে উপস্থাপন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, আদালতের কার্যক্রম চলাকালে পিপি কামরুল হাসানের আচরণ ও বক্তব্য আদালতের শৃঙ্খলা, মর্যাদা ও ভাবমূর্তির পরিপন্থি এবং তাঁর পেশাগত আচরণের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ছিল।
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, নোটিশে তার লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে সিনিয়র সহকারী সচিবের কাছে ওই ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে।
নোটিশের অনুলিপি শরীয়তপুরের জেলা ও দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসানের বক্তব্য জানতে তার চেম্বারে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি।
এর আগে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এজলাসে সাক্ষী হাজির করাকে কেন্দ্র করে বিচারক ও এক আইনজীবীর সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসানের অসদাচরণের অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান বিচারকার্য রেখে এজলাস থেকে নেমে যান বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও আদালতের কর্মচারীরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় আদালতে হাজিরা দিতে আসা দূর-দূরান্তের মামলার বাদী, বিবাদী ও সাক্ষীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দীর্ঘ সময় আদালত প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করেও হাজিরা দিতে না পারায় সময় ও অর্থের অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
