logo

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস: মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মনোকর্ণের দিনব্যাপী কর্মসূচি

চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস: মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মনোকর্ণের দিনব্যাপী কর্মসূচি
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বিশেষ মনোবিজ্ঞানবিষয়ক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় কর্মসূচি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

‘জীবিত অভিজ্ঞতার কথা শোনা: বাস্তব কণ্ঠস্বর, বাস্তব পরিবর্তন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বিশেষ মনোবিজ্ঞানবিষয়ক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘আর্ক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’ এবং ‘মনোকর্ণ ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড রিসার্চ’-এর যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর শিকারপুর এলাকার আর্ক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ. এম. মাসুদুল আজাদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মনোকর্ণ ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড রিসার্চের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক রায়হানুল সাদেক এবং আর্ক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের আসক্তি নিরাময় বিশেষজ্ঞ দিদার আলম।

কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুর রহমান ‘হাসির মাধ্যমে পারস্পরিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি’ এবং একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আফজাল হোসেন ‘মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে বিশেষ বিষয়ভিত্তিক সেশন ও কর্মশালা পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম কলেজ ও সরকারি সিটি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল সরাসরি অংশগ্রহণমূলক মনোবিজ্ঞান কর্মশালা, মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন, দলগত কার্যক্রম, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় সেশন।

অনুষ্ঠানে খেলাধুলার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে যুগোপযোগী, অংশগ্রহণমূলক এবং সবার জন্য উন্মুক্ত করার এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করে ‘মনোকর্ণ’। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা’ প্রদান করা হয়, যা উপস্থিত সবার কাছে বেশ প্রশংসিত হয়।

রায়হানুল সাদেক জানান, শুধু পাঠ্যপুস্তক ও শ্রেণিকক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সীমানায় আবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্তি এবং বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্যজনিত চ্যালেঞ্জের বাস্তব প্রভাব ও নিরাময়প্রক্রিয়া সরাসরি অনুধাবন করার সুযোগ পান।

কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীর হাতে প্রশিক্ষণ সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।