logo

‘ওরা আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না’

‘ওরা আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না’
কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত শিশুর মা লায়লা বেগম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

শরীয়তপুরের জাজিরায় পিঠের ফোঁড়া অপসারণ করতে গিয়ে পল্লি চিকিৎসকের হাতে সামিয়া (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে শিশুটির মা লায়লা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মেয়ের দাদার বাড়ির লোকজন তার মেয়েকে হত্যা করিয়েছে। ওরা আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মেহেরখার কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সামিয়া ওই এলাকার প্রবাসী হান্নান ফকির ও লায়লা বেগম দম্পতির মেয়ে।

স্বজনদের অভিযোগ, ফোঁড়া কাটার আগে শিশুটিকে একের পর এক চারটি ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল হান্নান ফকির ও তার স্ত্রী লায়লা বেগমের মধ্যে। এর জেরে প্রায় তিন মাস আগে লায়লা বাবার বাড়িতে চলে যান। এসময় মেয়েকে সঙ্গে নিতে চাইলেও শ্বশুর-শাশুড়ি সামিয়াকে নিজেদের কাছে রেখে দেন।

কয়েক দিন আগে সামিয়ার পিঠে একটি ফোঁড়া দেখা দেয়। পরে তার দাদা-দাদি তাকে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে পল্লি চিকিৎসক মনিরের কাছে নিয়ে যান। স্বজনদের দাবি, ফোঁড়া কাটার জন্য প্রথমে একটি ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়। এতে কাজ না হওয়ায় একে একে চারটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপরই শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সামিয়ার মা লায়লা বেগম বলেন, স্বামীর সঙ্গে ঝামেলার কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমার মেয়েকে তাদের কাছে রেখে দিয়েছেন। মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও আমাকে মারধর করা হতো। আজ তারাই আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। ওরা আমার ছোট্ট মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না। আমার মেয়েটা পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখতে পারল না।

খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে শিশুটির দাদা-দাদির পরিবারের সদস্যরা এবং সংশ্লিষ্ট পল্লি চিকিৎসক মনির পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, সামিয়ার পিঠের ফোঁড়া কাটার জন্য তাকে এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে ইনজেকশন দেওয়ার পর সে ঝিমিয়ে পড়ে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।