স্ত্রীকে হত্যার পর উঠানে মাটিচাপা, স্বামীসহ গ্রেপ্তার ৪

মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় ঘাতক স্বামী আলমগীর আলীসহ (২৭) চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৫ দিন পর সোমবার (৬ জুলাই) আলমগীর আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির উঠান খুঁড়ে স্ত্রী জাহেদা বেগমের (৩৮) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে রাজনগর থানায় গেলে আলমগীরের অসংলগ্ন বক্তব্য ও সন্দেহজনক আচরণে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আলমগীরের স্বীকারোক্তির পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের ঘটনায় জিডির পর তদন্তের অংশ হিসেবে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত গত ২০ জুন রাত ৯টার দিকে আলমগীর আলী তার স্ত্রী জাহেদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সহযোগীদের নিয়ে গভীর রাতে বসতবাড়ির উঠানের এক পাশে গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দেন।
হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আলমগীর রাজনগর থানায় গিয়ে দাবি করেন, তার স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন এবং কাউকে না জানিয়ে বিদেশে চলে গেছেন। এ বিষয়ে তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চান। তবে তার বক্তব্যে অসংগতি থাকায় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করলে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার (৬ জুলাই) বাড়ির উঠান থেকে জাহেদা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।





