logo

সকালেও ছিলেন হাসিখুশি-নিয়েছেন ফুলেল শুভেচ্ছা, দুপুরের আগে সেই শিক্ষকের মৃত্যু

সকালেও ছিলেন হাসিখুশি-নিয়েছেন ফুলেল শুভেচ্ছা, দুপুরের আগে সেই শিক্ষকের মৃত্যু
মারা যাওয়া স্কুলশিক্ষক মো. নুর আলম ও বিদ্যালয়ে টানানো শোক ব্যানার। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

সকালেও ছিলেন হাসিখুশি। নিয়েছেন ফুলেল শুভেচ্ছা। সেই ব্যক্তি দুপুরের আগে মারা গেছেন। তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুর আজম।

সোমবার (৫ অক্টোবর) অসুস্থ অবস্থায় বিদ্যালয়ের পাশ থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া মো. নুর আজম মীরগড় এলাকার বাসিন্দা। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। আগে অন্যান্য বিদ্যালয়ে চাকরি করার পর ২০১২ সালে মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

নুর আজমের আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সহকর্মীরা বলছেন, শিক্ষক দিবসে এমন একটি দিন দেখতে হবে–তা নিজেদের কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হচ্ছে তাদের।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম বলেন, হেডস্যার সকালে স্কুলে আসার পর শিক্ষার্থীরা শিক্ষক দিবস উপলক্ষে তাকে ফুল দিয়েছিল। আমরা শ্রেণিকক্ষে চলে যাই। ঠিক ১০ টা ২০ মিনিটে খবর পেলাম পাশের দোকানে চা পান করতে বসে স্যার হঠাৎ করে বুকে ব্যাথা অনুভব করছিলেন। আমাদের স্কুলের অফিস সহায়ক তাকে ইজিবাইকে করে হাসপাতালে রওয়ানা দেন। আমরা গিয়ে দেখি তিনি মারা গেছেন। তার এমন চলে যাওয়া কেন জানি বিশ্বাস করতে পারছি না।

আতাউর রহমান নামে অপর একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, স্যার আমাদের অত্যন্ত প্রিয় সহকর্মী ছিলেন। সকালে স্কুলে এসে শিক্ষার্থীদের কাছে ফুল পাওয়ার কথা আমাদের হাসিমুখে জানালেন। কিছুক্ষণ পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তার বিপি (ব্লাড প্রেশার) পাচ্ছিলেন না। পরে ইসিজি করে চিকিৎসক জানালেন তিনি মারা গেছেন। এটা আমাদের জন্য খুব কষ্টের। তিনি ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জেনেছি। সোমবার রাত নয়টার দিকে মীরগড় এলাকায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান বলেন, ওই শিক্ষককে জরুরি বিভাগে আনার পর তার ব্লাড প্রেশার পাওয়া যাচ্ছিল না। শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে তার বুকে চাপ দেওয়াসহ সব ধরনের চেষ্টা করা হয়। ইসিজি করে নিশ্চিত হই তিনি মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে (গুরুতর হৃদরোগ) আক্রান্ত হয়েছিলেন।