বিয়ের আগে ডেঙ্গুতে মৃত্যু, মরদেহে সিঁদুর পরিয়ে স্ত্রীর মর্যাদা দিলেন হবু বর

বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল আগামী ১৬ অক্টোবর। কেনাকাটাও শেষ হয়েছিল দুপরিবারে। বিয়ের ধুমধামের আবহেই হঠাৎ নেমে এলো ঘোর অমানিশা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নৈয়ারবাড়ি গ্রামের নার্স বৃষ্টি ঘরামি (২৫)। তবে মৃত্যুর পর তার কপালে সিঁদুর পরিয়ে স্ত্রীকে শেষ মর্যাদা দিয়েছেন হবু বর সবুজ মণ্ডল।
রোববার (৪ অক্টোবর) কপালে সিঁদুর পরা বৃষ্টির নিথর দেহের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার মৃত্যু হয় তার। বৃষ্টি ঢাকার শ্যামলীর একটি ট্রমা সেন্টারে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে প্রায় নয় মাস দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
মৃত্যুর দিন সকালেও নিজের ফেসবুকে বি নেগেটিভ রক্তের জরুরি প্রয়োজন জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন বৃষ্টি। রক্তদাতাদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে একটি যোগাযোগের নম্বরও দিয়েছিলেন তিনি।
বৃষ্টির বড় বোন মেঘনা ঘরামি অভিযোগ করে জানান, বৃষ্টির শরীরের তাপমাত্রা ১০৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল এবং পরে তিনি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু করা হয়নি বলে দাবি করেন মেঘনা। তার মতে, চিকিৎসা শুরু করতে ১০ থেকে ২০ মিনিট দেরি না হলে হয়তো বৃষ্টিকে বাঁচানো যেত।
গোপালগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী বৃষ্টির সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকার যুবক সবুজ মণ্ডলের।
মৃত্যুর পর হবু স্ত্রীকে শেষ মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে বোন মেঘনা ঘরামি বলেন, সবুজের ইচ্ছাতেই বৃষ্টির কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে আসার সময় সবুজের বাবা-মা বিয়ের জন্য কেনা নতুন জামাকাপড় ও গয়নাগাটি সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রোগীদের প্রতিও চরম আন্তরিক ছিলেন বৃষ্টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া বিভিন্ন পোস্টে সেই মানবিকতার পরিচয় মেলে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনায় আহত এক কিশোরী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে সেবা দেওয়ার সময় একটি আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন তিনি।
১৬ অক্টোবরের শুভপরিণয়কে সামনে রেখে দুই পরিবারে যখন উৎসবের আমেজ চলছিল, তখনই বৃষ্টির অকালমৃত্যুতে থমকে গেল সব আয়োজন। নিথর কপালে সিঁদুর পরিয়ে হবু বর সবুজের ভালোবাসার এই পরিণতি কাঁদিয়ে গেল সবাইকে।
