ফেসবুকে পরিচয়, মুঠোফোনে বিয়ে–পরে জানলেন ‘স্ত্রী’ এক তরুণ

নারী সেজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্পর্কের জেরে এক ইতালিপ্রবাসীকে বিয়ে করে তিন লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শান্ত আলী ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ছয়-সাত মাস আগে ইতালিপ্রবাসী খোরশেদ আলীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সুমাইয়া’ নামের এক নারী ফেসবুক আইডির পরিচয় হয়। সেখান থেকে নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা মুঠোফোনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পরও খোরশেদ আলী তার স্ত্রীর চেহারা প্রত্যক্ষ করেননি। ভিডিও কলে আসতে বললে নানা অজুহাত দেখিয়ে নিজের পরিচয় আড়াল করে রাখতেন কথিত সুমাইয়া।
একপর্যায়ে স্মার্টফোন না থাকার কথা জানালে খোরশেদ টাকা পাঠান। টাকা পাঠানোর পর জানানো হয়, ফোন কিনতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় কথিত স্ত্রী ও তার বাবা দুজনই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এভাবেই অসুস্থতার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিতে থাকে প্রতারক চক্রটি। পরে খোরশেদ আবার টাকা পাঠালে তারা মোবাইল ফোন কেনে এবং মেসেঞ্জারে কথা বলা শুরু করে। কিন্তু এবারও ভিডিও কলে আসতে একই ধরনের অজুহাত সৃষ্টি করা হয়।
গতকাল বুধবার দুপুরে কথিত সুমাইয়াকে আবার ভিডিও কল দেন খোরশেদ আলী। সেই কলটি রিসিভ করেন লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম। তিনি ইতালিপ্রবাসী খোরশেদকে জানান, নারী ভেবে যাকে তিনি বিয়ে করেছেন, তিনি আসলে নারী নন, শান্ত আলী নামে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ। নারী কণ্ঠে কথা বলে এতদিন তিনি প্রবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, প্রতারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বুধবার লালপুরের গন্ডবিল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শান্ত আলী ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটকের পরই মূলত কথিত সুমাইয়ার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায়।
পুলিশ যখন ভিডিও কলে কথিত স্ত্রী সুমাইয়া ওরফে শান্ত আলীকে খোরশেদ আলীর সামনে আনে, তখন তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৃথিবীতে যে এ ধরনের প্রতারক থাকতে পারে, তা আমি কখনোই ভাবিনি। ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
পুলিশ আরও জানায়, ২০ বছর বয়সি শান্ত আলী প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া না জানলেও প্রযুক্তির ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ। মুঠোফোনে বিশেষ অ্যাপস ব্যবহার করে তিনি নারী কণ্ঠে কথা বলতেন ও বার্তা পাঠাতেন। শুধু তা-ই নয়, বিয়ের পর কথিত শ্বশুর শহিদুল ইসলামের সঙ্গেও বহুবার কথা বলেছেন খোরশেদ। শহিদুল বিষয়গুলো জেনেও ছেলেকে এই প্রতারণায় সরাসরি সহায়তা করেছেন।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, বাড়ির পাশের জমি কেনার কথা বলে একদিনেই প্রায় দুই লাখ টাকা নেয় শান্ত আলী। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার মিথ্যা নাটক সাজিয়েও অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। এভাবে বিভিন্ন দফায় তারা তিন লাখের বেশি টাকা নিয়েছে।
এ ঘটনায় শান্ত আলী ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
