চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে নেই কেউ, বাড়ছে চুরির আতঙ্ক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ঢুকলেই মোবাইল ফোন আর স্বর্ণের গয়না গায়েব হয়ে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার থাকলেও চুরির আতঙ্ক বাড়ছে জেলার প্রধান এই সরকারি হাসপাতালটিতে। তবু এ ব্যাপারেই উদাসীন রয়েছে প্রশাসন।
উপজেলাগুলোতে আনসার পাহারায় নিরাপত্তা দেওয়া হলেও, কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতায় জেলা হাসপাতালটি একদম অরক্ষিত থেকে গেছে। ফলে হাসপাতালটি এখন চোরচক্রের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। আর প্রতিনিয়ত সর্বস্ব হারিয়ে খেসারত দিচ্ছেন চিকিৎসা নিতে আসা গরিব ও অসহায় মানুষ।
গত ১ জুলাই থেকে জেলার শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট-এই ৪টি উপজেলায় ১০ জন করে মোট ৪০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা ফিরলেও জেলা হাসপাতালটি এই সুবিধা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত।
২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন উপচে পড়া ভিড় থাকে। গত ৭ মাসে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ সেবা নিয়েছেন। শয্যা না পেয়ে যাদেরকে বাধ্য হয়ে মেঝে বা বারান্দায় শুতে হচ্ছে, তারাই চোরদের প্রধান টার্গেট। দিনদুপুরে কিংবা গভীর রাতে বহিরাগতরা অনায়াসে হাসপাতালে ঢুকছে এবং চুরির কাজ সেরে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাচ্ছে। থানায় অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি। হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আনসার মোতায়েনের দরকার থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।
হাসপাতালে চুরির চিত্র উঠে এসেছে একাধিক কেস স্টাডিতে। শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুর অভিভাবক শিবগঞ্জের জীবন হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাত ৩টা পর্যন্ত জেগে পাহারা দিলাম। চোখটা একটু লেগে এসেছে, অমনি মোবাইল হাওয়া! এই হাসপাতাল রোগী নয়, বরং অপরাধীদের আশ্রয় হয়ে উঠেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সুমাইয়া খাতুন নামের আরেক নারী জানান, ভর্তি হওয়ার প্রথম রাতেই তিন নারী রোগীর কানের দুল ও গলার চেন নিয়ে গেছে চোরেরা। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও হাসপাতালের কর্মকর্তারা সবসময় দায় এড়িয়ে চলেছেন। স্থানীয়রা বারবার হাসপাতালে আনসার মোতায়েনের দাবি জানালেও, সাবেক কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো চাহিদাপত্র পর্যন্ত পাঠাননি।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি কিছুদিন হলো এখানে যোগদান করেছি। জেলার অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে আনসার মোতায়েন করা হলেও এখনও এই হাসপাতালে হয়নি। কারণ, আমার আগের কর্মকর্তারা কোনো চাহিদাপত্র প্রেরণ করেননি। আমি এসেই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে ২০ জন আনসার সদস্যের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট মো. আরিফুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলার ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু জেলা হাসপাতালে আনসার মোতায়েন করা হয়নি। তবে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুমতি দিলেই আমরা সেখানে লোক নিয়োগ দেব।
শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি জনগণের নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যরা বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।




