চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কার কৃষক দল নেতা বললেন ‘আমি নির্যাতিত’

চাঁদাবাজি, মারধর ও অপহরণের অভিযোগে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আমিনুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সংবাদ সম্মেলন করে বহিষ্কারাদেশকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেন এই নেতা। পাশাপাশি নিজেকে তিনি ‘ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা’ দাবি করেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের বালুয়া চৌমুহনী বাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীর সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ ওঠে, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে আমিনুল হকের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল কুদ্দুস চৌধুরীকে অটোরিকশায় তুলে চিন্তারপোল এলাকার এক নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করে নগদ ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনশ টাকার ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগী কুদ্দুস চৌধুরী ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনাটি তুলে ধরেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এলে ফেনী সদর উপজেলা জাতীয়তাবাদী কৃষক দল এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ আবদুল গণি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আমিনুল হককে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ আবদুল গণি এশিয়া পোস্টকে জানান, দলে কোনো অপরাধী বা চাঁদাবাজের স্থান নেই এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন আমিনুল হক। তিনি দাবি করেন, এটি কোনো চাঁদাবাজি বা অপহরণের ঘটনা নয়, বরং পাওনা টাকা নিয়ে একটি দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসার প্রচেষ্টা ছিল।
আমিনুল হক বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে। দলের নেতারা কোনো তদন্ত না করেই আমাকে বহিষ্কার করলেন। আমি বিগত ১৪ বছর ধরে দলের জন্য চরম নির্যাতিত। আমার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে, ভিটেমাটি বিক্রি করে শহরে বাসা ভাড়া থেকেছি কিন্তু এলাকায় ঢুকতে পারিনি। অথচ দল আজ কোনো তদন্ত ছাড়াই আমাকে বহিষ্কার করল।


