জামিনে বেরিয়ে আরেক যুবদল নেতাকে খুন, সিসি ক্যামেরায় শনাক্ত

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী খুন হওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে দিদারুল আলম নামে এক সন্ত্রাসী। এক বছর আগেও এক যুবদল নেতাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। উচ্চ আদালত থেকে সেই মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন আট মাস আগে। কিন্তু কারাগার থেকে বেরিয়ে পুনরায় লিপ্ত হয়েছেন হত্যা মিশনে। সম্প্রতি রাউজানের ওই যুবদল নেতা হত্যাকাণ্ডের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিলেন পেশাদার কিলার দিদারুল।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে শনাক্ত
গত ১৩ জুন রাউজানের বাগোয়ান এলাকায় যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫) খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া পাঁচজনের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশের হাতে আসে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সেই ফুটেজে চিহ্নিত অপরাধী দিদারুল আলমকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা গেছে।
রক্তাক্ত অতীত
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দিদারুল আলমের অপরাধের ফিরিস্তি বেশ দীর্ঘ। গত বছরের ২২ এপ্রিল রাউজান সদর ইউনিয়নে যুবদল নেতা মো. ইব্রাহিমকে দোকানে ডেকে নিয়ে মাথায় গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন এই দিদারুল। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর ২০ অক্টোবর তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। এ ছাড়া ২০২৪ সালে একটি চুরির মামলায়ও তিনি জেল খাটেন।
জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ইন্টারনাল ক্রাইম ডেটাবেজ অনুযায়ী দিদারুলের বিরুদ্ধে বাকলিয়া থানার একটি হত্যা মামলাসহ ডাকাতি ও চুরির অন্তত ৯টি মামলা রয়েছে। প্রতিবারই তিনি গ্রেপ্তার হন এবং দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় অপরাধে জড়ান।
নেপথ্যে বালুমহাল ও আধিপত্যের লড়াই
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করেই মাকসুদুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিহত মাকসুদুলের নিয়ন্ত্রণে রাঙ্গুনিয়ার চম্পাতলী ঘাট এবং রাউজানের খেলার ঘাট এলাকার দুটি বড় বালুমহাল ছিল। এই ঘাটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতেই পেশাদার খুনি দিদারুলকে ভাড়া করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পিয়ারুল হক চৌধুরীর ছোট ভাই এবং সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আগামী ইউপি নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পুলিশ যা বলছে
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ইব্রাহিম হত্যা মামলায় দিদারুলকে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি ৬ মাসের জামিন পান। জামিনে থাকা অবস্থায় তিনি পুনরায় একই ধরনের নৃশংস অপরাধে জড়িয়েছেন বলে আমরা প্রমাণ পেয়েছি।
.png)


