পদত্যাগ করা মন্ত্রী খাওয়ালেন খিচুড়ি, প্রতিমন্ত্রী খাওয়ালেন বিরিয়ানি

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির রাজনীতির এখন টালমাটাল অবস্থা। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রিত্ব থেকে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এরই মধ্যে রাঙামাটি জেলা বিএনপির নেতারা ঢাকায় এসে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ে জরুরি সাংগঠনিক সভা করলেন।
সোমবার (৮ জুন) সকালে ঢাকা সফর কারী ৫০ জন নেতার মধ্যে ৩০ জন দীপেন দেওয়ানের বাসায় গিয়ে দেখা করেন। এ সময় খাসি ও মুরগির খিচুড়ি দিয়ে আপ্যায়িত হন তারা। পরে দুপুরে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সভা করেন সবাই। সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী তাদের বিরিয়ানি, কাবাব, মুরগির মাংস দিয়ে আপ্যায়িত করেন।
গত ৬ জুন (শনিবার) জেলা বিএনপির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুনের খুদেবার্তা আর ফোন পেয়ে দ্রুত ঢাকায় আসেন নেতারা।
ভূমি প্রতিমন্ত্রীর অফিসিয়াল ব্যস্ততায় কারণে সকাল ১০টার সভা নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর ১টায় শুরু হয়।
পার্বত্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হলেন রাঙামাটি বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা উপজেলার অধিকাংশ নেতা।
সভার আগের দিন অংশ নিতে ডাক পেয়েছিলেন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সেক্রেটারিরাও। তবে তারা ছিলেন শুধুই পর্যবেক্ষক, বক্তব্য দেন বিএনপি নেতারাই। ব্যানারে নাম না থাকলে সভায় উপস্থিত ছিলেন তিন পার্বত্য জেলা থেকে মনোনীত নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমাও।
উপজেলা ও জেলার নেতারা তাদের বক্তব্যে ভিন্ন ভিন্ন নানা অবস্থান তুলে ধরেন। তারা সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নেতাদের মূল্যায়ন করা, নিয়মিত সাংগঠনিক সভা, ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কেউ কেউ দীপেন দেওয়ানের প্রসঙ্গও তোলেন, কেউ নানা রাগ-ক্ষোভ ও অভিমানের বিষয় জানান, কেউবা প্রতিটি উপজেলার মূল নেতাদের পাশ কাটিয়ে বিকল্প নেতৃত্বকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ আনেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল এ সময় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা ও রেইনবো নেশন তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, ‘আজকের সভায় যোগ দেওয়ার জন্য দীপেন চাচাকে (দীপেন দেওয়ানকে) আমন্ত্রণ জানাতে আমি মামুনকে (জেলা বিএনপির সেক্রেটারি) পাঠিয়েছিলাম, তিনি আসেননি।’
এই বিষয়ে দীপেন অনুসারী জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো এশিয়া পোস্টকে বলেন, তারা স্থানীয় এমপি, দুজন রাঙামাটির কেন্দ্রীয় নেতা এবং আরও অনেককে না জানিয়ে পত্রিকায় ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা দেখে শেষ মুহূর্তে দাদাকে (দীপেন দেওয়ানকে) সভায় অংশ নিতে অনুরোধ করেছে, দাদা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি যাবেন না। নেতাকর্মীরা অনেকেই সকালে দাদার বাসায় এসেছিলেন, তার সঙ্গে দেখা করেছেন, একসঙ্গে খিচুড়ি ও নাশতা করেছেন।’
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল বলেন, দুপুরে সভা শেষে অংশগ্রহণকারী নেতাদের সবার জন্য খাবারের আয়োজনও করেছিলেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী, খাবারের মেন্যুতে ছিল বিরিয়ানি, কাবাব, মুরগি রোস্ট, ডিম আর সবজি।’
তবে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এটি আমাদের একটি নিয়মিত সাংগঠনিক কাজ। প্রতিমন্ত্রী ব্যস্ততার কারণে যেতে পারছেন না বলে আমরা সবাই ঢাকায় এসেছি। তিনি সাংগঠনিক নানা বিষয়ে আমাদের দিকনির্শেনা দিয়েছেন। এর বাহিরে অন্য কিছু নয়। এই সভা নিয়ে বাইরে যারা নানা আলোচনা-সমালোচনা করছেন, সেসব ঠিক নয়।’
