logo

চার জেলায় বজ্রাঘাতে ১০ জনের মৃত্যু

চার জেলায় বজ্রাঘাতে ১০ জনের মৃত্যু
বজ্রপাত। ছবি: সংগৃহীত

চার জেলায় বজ্রাঘাতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলাযেই তিন নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহে শিক্ষকসহ দুজন, লালমনিরহাটে এক নারী ও পঞ্চগড়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছয়জনের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় বজ্রাঘাতে তিন নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বৃষ্টির সময় বজ্রপাত হলে তাদের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ, শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি-বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন, মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মো. মেসবাউল এবং নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম ও নাচোলের নিজামপুর ইউনিয়নের গুষাইপুর এলাকার সাকিউলের ছেলে হাসান আলী।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, শিবগঞ্জে তিনজন বজ্রাঘাতে মারা গেছেন। তারা সবাই বৃষ্টির সময় বাড়ির পাশের আম বাগানে আম কুড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানেই বজ্রাঘাতে তাদের মৃত্যু হয়।

সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন জানান, বিকেলে বৃষ্টির মধ্যে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন আব্দুল্লাহ। স্থানীয়রা তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাচোল উপজেলার লাহাবাড়িতে মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে সুমিয়ারা বেগম মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ। একই উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের গুষাইপুর এলাকার হাসান আলী আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, শিবগঞ্জের নিহত তিন পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।

একইভাবে সদর ও নাচোল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ আর্থিক অনুদান প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহে শিক্ষকসহ দুজনের মৃত্যু

ময়মনসিংহে পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে শিক্ষকসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুক্তাগাছা উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের রৌহারচর গ্রামে ও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন পাঁচভাগ ইউনিয়নের মধ্য লামকাইন গ্রামে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মুক্তাগাছার রৌয়ারচর গ্রামের মৃত ইছব আলীর ছেলে খালেকুল আজাদ (৬০) ও গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন পাঁচভাগ ইউনিয়নের মধ্য লামকাইন গ্রামের মৃত রুকন উদ্দিনের ছেলে সিয়াম খান (২৮)। খালেকুল আজাদ স্থানীয় গাবতলী ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক খালেকুল আজাদ মুক্তাগাছা পৌর শহরের হৃদয়মোড়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রামের বাড়ি রৌহারচরে ছিলেন তিনি। এ সময় হাঁটাহাঁটি করার একপর্যায়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।

অপরদিকে সকালে গফরগাঁওয়ের লামকাইন গ্রামে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিলেন সিয়াম। এ সময় আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। হঠাৎ করেই বজ্রপাতে সিয়াম গুরুতর আহত হন। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে পাগলা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন।

লালমনিরহাটে নারীর মৃত্যু, আহত ৭

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রাঘাতে আজিমা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একই উপজেলার পৃথক স্থানে আরও অন্তত সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ফকিরপাড়া ও সানিয়াজান ইউনিয়নে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। নিহত আজিমা বেগম উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের দালালপাড়া এলাকার আব্দুস সোবাহানের স্ত্রী।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যায় হঠাৎ করে হাতীবান্ধা এলাকায় দমকা হাওয়াসহ প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এ সময় ঘর থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে বজ্রপাতের শিকার হন আজিমা বেগম। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে একই সময় উপজেলার পৃথক স্থানে আরও সাতজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দালালপাড়া এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে মিজানুর রহমানকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ছাড়া ফকিরপাড়া ইউনিয়নের বুড়া সারডুবী এলাকায় চারজনসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আরও সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

হাতীবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার মো. মিলন মিয়া জানান, বজ্রপাতের খবর পেয়ে আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কেউ মারা গেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের জানা ছিল না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মহসিন আলী বলেন, বজ্রপাতের শিকার আজিমা বেগমকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া মিজানুর রহমানসহ বজ্রপাতে আহত বেশ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পঞ্চগড়ে তরুণের মৃত্যু

পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (১৯) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল ৬টার দিকে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শাহাদাত ওই এলাকার কেরামত আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, শাহাদাত ট্রাক্টরের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বিকেলে তিনি ট্রাক্টরচালকের সঙ্গে ফসলি জমি থেকে ভুট্টা পরিবহন করছিলেন। এ সময় ট্রাক্টরের চাকা নরম মাটিতে দেবে যায়। বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় ট্রাক্টর তোলার কাজে ব্যবহারের জন্য একটি বেলচা আনতে বাড়িতে যান তিনি।

বেলচা নিয়ে ঘটনাস্থলে ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন শাহাদাত। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহ সুরতহাল শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

[প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে, ময়মনসিংহ, লালমনিরহাট ও পঞ্চগড় প্রতিনিধি]