সিলেটে খুন হওয়া দম্পতির জানাজায় মানুষের ঢল

সিলেটে হত্যাকাণ্ডের শিকার প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০) ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের (৭৬) জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাদ আসর নগরের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে তাদের জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
জানাজায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে অংশ নেন এই দম্পতির একমাত্র ছেলে আরিফ ইফতেখার। শুক্রবারই তিনি দেশে ফেরেন। জানাজার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি মা-বাবার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া চান।
পরে পাশাপাশি দুটি খাটিয়ায় মরদেহ রেখে একসঙ্গে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিকেলে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে রায়নগরের বাসা থেকে মরদেহ দুটি শাহী ঈদগাহ ময়দানে আনা হয়।
জানাজা শেষে মরদেহ দুটি নয়াসড়ক এলাকার হযরত মানিক পীর (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
দাফন ও জানাজায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই দম্পতির একমাত্র ছেলে ও এক মেয়ে শুক্রবার দেশে ফেরেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরেন তাদের আরও দুই মেয়ে।
দাফনের পর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত দম্পতির ছেলে থানায় মামলা করবেন বলে জানা গেছে।
এর আগে বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও তাদের গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৮) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাহমিনার জানাজা ও দাফন বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন হয়।
বৃহস্পতিবার নিহত দম্পতির মেয়েরা দেশে ফিরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে তাঁদের বাবা-মায়ের মরদেহ গ্রহণ করেন।
নিহত আব্দুস সাত্তারের চার সন্তানের সবাই প্রবাসে বসবাস করেন। তাদের মধ্যে দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে এবং এক মেয়ে ও একমাত্র ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
গত বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকার ওই বাসায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার ছয় ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্মী তাহমিনার প্রেমিক বাবুল মিয়া একাই তিনজনকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়।



