কনে আইসিইউতে, বর হাসপাতালে

শুরু হওয়ার কথা ছিল নতুন জীবনের পথচলা। স্বামীর হাত ধরে ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা ছিল সুমাইয়া আক্তারের। বাড়িজুড়ে ছিল সাজসজ্জা, আত্মীয়স্বজনের কোলাহল আর বিয়ের আনন্দ। কিন্তু বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
গুরুতর আহত হয়ে কনে সুমাইয়া আক্তার এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে (আইসিইউ) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, বর মোরছালিন ইসলামের ডান হাত ভেঙে গেছে। তিনিও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ-টেংগনমারী সড়কের শাল্টিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বরযাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।
নিহতরা হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার জিকরুল ইসলামের ৭ মাস বয়সি শিশু জীবন ইসলাম এবং মোজা মিয়ার ছেলে রিয়াদ ইসলাম (২০)। রিয়াদ চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কচুকাটা বন্দরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোরছালিনের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের শরিফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েতে বরযাত্রী হিসেবে বরের সঙ্গে প্রায় ৫০-৬০ জন এসেছিলেন। তাদের মধ্যে দুটি গাড়ির বরযাত্রী আগেই বাড়ি ফিরে যান। বিয়ে শেষে বরের বন্ধু ও কয়েকজন আত্মীয়সহ বর-কনেকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাস বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত ৩টার দিকে শাল্টিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
এ সময় মাইক্রোবাসে থাকা বর-কনেসহ অন্তত ১৪ জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাকি ১২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কনেকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে এবং বরের ভাঙা হাতের চিকিৎসা চলছে।
বরের প্রতিবেশী চাচা মামুনার রশীদ মিঠু বলেন, গতকাল রাতে মোরছালিনের বিয়ে ছিল। ফেরার পথে মাইক্রোবাসটি খাদে পড়ে যায়। যেখানে সবার আনন্দ করার কথা ছিল, সেখানে আজ আমাদের দাফনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। নতুন বর-কনেকে দেখতে মানুষের ভিড় জমানোর কথা, অথচ মানুষ আসছে লাশ দেখতে।
কনের বাবা শরিফ মিয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, অনেক আশা করে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। স্বামীর ঘরে সুখে সংসার করবে এটাই তো চেয়েছিলাম। কিন্তু বিয়ে শেষ করে যাওয়ার পথেই সব শেষ হয়ে গেল। আমার মেয়েটা এখন আইসিইউতে বাঁচার লড়াই করছে।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
