আ.লীগ শক্তিশালী হলে দেশ ছেড়ে পালাত না: রাশেদ খাঁন

আওয়ামী লীগ নেতাদের শক্তির দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন বলেছেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারা যদি এতই শক্তিশালী হতেন, তাহলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হতো না।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় মাগুরায় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ মেহেদী হাসান রাব্বির কবর জিয়ারত ও তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘দখলবাজ’ আখ্যা দিয়ে তার দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ একটি পলাতক সরকার। দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়ায় ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা কি এতটাই বেপরোয়া যে তিনি ফিরে আসবেন? বাংলাদেশের সচেতন জনগণ তাঁকে আর কখনোই মেনে নেবে না।
ভারতের ভূমিকা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা জরুরি। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে ‘দুই নৌকায় পা দিয়ে’ চলার নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়। ভারত সরকার একদিকে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবে; তা হতে পারে না।
শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্য সম্পর্কে রাশেদ খাঁন বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন যে তাঁকে নিয়ে কথা বলতে হবে। তবে তিনি যেভাবে সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। জামায়াত ও এনসিপির উচিত তাঁর বক্তব্যের লাগাম টেনে ধরা, অন্যথায় জনগণই তাঁর লাগাম টেনে ধরবে।
এর আগে সকালে মো. রাশেদ খাঁন শহীদ মেহেদী হাসান রাব্বির কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন। কবর জিয়ারত শেষে তিনি শহীদ রাব্বির বাসভবনে যান। সেখানে তিনি রাব্বির বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এ সময় রাব্বির স্ত্রী শোকে বিলাপ করে বলেন, আমি বেঁচে থাকতেই আমার স্বামীর হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।
শহীদ পরিবারের বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে রাশেদ খাঁন সেখান থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনকে ফোন করেন। মামলার মেডিকেল রিপোর্ট ও চার্জশিট দাখিলে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম গতিশীল করার তাগিদ দেন।
পাশাপাশি জামিনে থাকা আসামিদের জামিন বাতিল এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।
-9cfe3b.jpg)