logo
Advertisement

দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার ২৪ দিন পর বৃদ্ধের মৃত্যু

দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার ২৪ দিন পর বৃদ্ধের মৃত্যু
এছাহাক সরদার। ছবি : পারিবারিক সূত্রে পাওয়া

মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের হামলায় দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়া মো. এছাহাক সরদার (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ ২৪ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।

নিহতের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভার উত্তর জনারদন্দী গ্রামের নশাই সরদারের ছেলে এছাহাক সরদারের সঙ্গে একই এলাকার ঝালু মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২২ আগস্ট রাতে স্থানীয় দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে তুহিন মোল্লা, পারভেজ মোল্লা, রবিউল মোল্লা ও লিমন মোল্লাসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। এ সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সশস্ত্র হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং দুই পায়ের রগ কেটে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান; পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ২৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে আজ দুপুরে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

পরিবারের অভিযোগ, রগ কাটার ঘটনার পরদিন (২৩ আগস্ট) ঝালু মোল্লা ও তার সহযোগীরা নিহতের বাড়িতে আবারও অতর্কিত হামলা চালিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং দুটি বসতঘর ভাঙচুর করে। এতে বাধা দিতে গিয়ে আরও অন্তত তিনজন আহত হন। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে কালকিনি থানা-পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতের ভাতিজা রাসেল সরদার বলেন, আমার চাচাকে একা পেয়ে ঝালু মোল্লা ও তার লোকজন হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে তার দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এত দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তিনি মারা গেছেন। আমরা সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নিতে ঝালু মোল্লার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং এলাকাতেও তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, পূর্বের হামলার ঘটনায় থানায় ইতিমধ্যে মামলা হয়েছিল। এখন ভুক্তভোগীর মৃত্যুর প্রেক্ষিতে পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন করে এটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।