রাজনীতিই আমার সব শেষ করে দিল, ছেলেকে হারিয়ে বিএনপি নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরের দিনেই স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত তরিকুল ইসলাম শেখ ১২ নম্বর রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম শেখের ছেলে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার আমভিটা-রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকায় গফফারের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
সন্তানকে হারিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কান্নায় ভেঙে পড়েন আবদুস সালাম শেখ। তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে ছিলাম, ঠিক তখন ওই দিকে আমার ছেলেটাকে গুলি করে মেরে ফেলল তারা। আসলে তারা কারা, জানি না। কী করে বুঝব, এভাবে হত্যা করবে? এখন আমি কার কাছে এই বিচার চাইব? প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আমার এই কষ্ট বোঝার কেউ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখন পরিবার ও স্বজনদের কীভাবে সান্ত্বনা দেব? নিজেকেই সান্ত্বনা দিতে পারছি না, কীভাবে স্ত্রীকে সান্ত্বনা দেব? এটা যে কী কষ্টের, তা বলে বোঝাতে পারব না। কান্নায় আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কারা এভাবে হত্যা করল, বুঝতে পারছি না। এখন আর আমার কিছুই বলার নেই। এই রাজনীতিই আমার সব শেষ করে দিল। আমার সন্তানকে কেড়ে নিল।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকায় আবদুল গফফারের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন তরিকুল। এ সময় হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন। কিছুক্ষণ কথা বলার পর তারা তরিকুলের মাথায় গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সমরেশ মণ্ডল জানান, খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তরিকুল। পরে বাসে জায়গা না পেয়ে ফিরে এসে চায়ের দোকানে বসেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই হেলমেটধারী ব্যক্তি তাকে গুলি করে পালিয়ে যান।
ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে আলামত জব্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে, পাশাপাশি এলাকায় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনার কোনো মোটিভ পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরের আগে ও চলাকালে মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে মাত্র ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনা মহানগরী ও রূপসায় চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মহানগরীতে দুটি হত্যাকাণ্ড এবং রূপসায় দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা রয়েছে।
খুলনা মহানগর ও জেলায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৭৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে মহানগরীতে ৩৮টি এবং জেলায় ৩৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রয়েছে।


