চারতলা ভবনও রেহাই পেল না, ময়মনসিংহে উচ্ছেদ ৪০ স্থাপনা
-a15884-720x405.webp)
ময়মনসিংহ নগরের ঢাকা বাইপাস মোড়ে কেওয়াটখালী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের জন্য চারতলা একটি ভবনসহ অন্তত ৪০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) দিনব্যাপী বুলডোজার দিয়ে এসব স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। প্রকল্প এলাকার অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, কেওয়াটখালী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় স্টিল আর্চ সেতুর সংযোগ সড়ক ও সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজের জন্য ঢাকা বাইপাস মোড়ে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের আগে সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছিল। এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
দিনব্যাপী অভিযানে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৪০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে একটি চারতলা ভবনও রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় থাকা বাকি স্থাপনাগুলোও পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় কেওয়াটখালী সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রকল্পটির মূল ভৌত কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে।
৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ১ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির ৩২০ মিটার হবে স্টিল আর্চ অংশ। দুই প্রান্তে পিলার থাকলেও নদীর মাঝখানে কোনো পিলার থাকবে না। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি হবে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্টিল আর্চ সেতু।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার সেতুর আদলে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে সেতুটি। এটি চালু হলে ময়মনসিংহ বিভাগের যোগাযোগব্যবস্থা, অর্থনীতি ও নগর উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও এর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযানে থাকা কেওয়াটখালী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী আরাফাত রহমান বলেন, রোববার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি চারতলা ভবনও রয়েছে।

