শ্রমিক দল নেতার বাড়ি ভাঙচুরের পর তার বিরুদ্ধেই মানববন্ধন

রংপুরের মিঠাপুকুরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে ঈদের দিন ‘মব সৃষ্টি করে’ এক শ্রমিক দল নেতার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ‘অভিযুক্তরা’।
রোববার (৩১ মে) সরেজমিনে উপজেলার বলদিপুকুর এলাকার দক্ষিণ মমিনপুরের শ্রমিক দল নেতা মো. এরশাদ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলসহ বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে।
এরশাদ মিয়া মিঠাপুকুর উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তবে অভিযুক্তদের করা মানববন্ধনে এরশাদ মিয়াকে ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তার মাদক ব্যবসা বন্ধ ও উচ্ছেদ করার দাবি জানানো হয়েছে।
এরশাদ মিয়া বলেন, রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন থেকে বলদিপুকুর জলেরটারির আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিনে স্ত্রী নাজনীন বেগমকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। রাত ৯টার দিকে বাসায় এসে দেখেন ৪/৫ জন চুরি করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, এ সময় গোলাম আহমেদ নামে এক যুবককে আটক করেন, বাকিরা পালিয়ে যান। এ সময় গোলাম মিয়ার পক্ষ নিয়ে জলেরটারি গ্রামের শাহ আলম মিয়ার নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন আমার বাড়িতে ঢুকে আমার স্ত্রী নাজনীনসহ সন্তানদের মারধর করে। আমাকে মারধর করে মোটরসাইকেলসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ছয় লাখ টাকার ক্ষতি করে। এ ছাড়া বাড়ির কিছু আসবাবপত্র পুড়িয়ে দিয়েছে। এ সময় গরু বিক্রির ছয় লাখ টাকা, এলইডি টিভি, মোটরসাইকেলসহ আসবাবপত্র লুট করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়ার দীর্ঘ সময় পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এরশাদ মিয়ার স্ত্রী নাজনীন বেগম বলেন, ‘আমার কষ্টে গড়া সংসার সব ওরা তছনছ করে দিলো। আগুন দিয়ে পোড়াইয়া দিছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায্য বিচার চাই।’
এদিকে বসতবাড়িতে ভাঙচুরের পরের দিনে (২৯ মে) মানববন্ধনে অংশ নিয়ে স্থানীয় নূরুল মিয়া বলেন, এরশাদসহ একাধিক মাদক ব্যবসায়ী প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন মাদক ব্যবসা করে আসছে। ঈদের দিনে প্রকাশ্যে মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার দুই ঘণ্টা পরে পুলিশের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসায়ী এরশাদ পালিয়ে গেছেন। এরপরেও প্রশাসন এরশাদসহ সকল মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরাই কঠিন ব্যবস্থা নেব।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে একাধিক স্থানীয় বিএনপি নেতা এরশাদকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শ্রমিক দল নেতা এরশাদ মাদক ব্যবসায়ী হলেও তার বাড়িতে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া শাহ আলম নিজেও চোলাই মদ ব্যবসায়ী। এখানে রাজনৈতিক বিষয়ের চেয়ে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্ব নিয়েই এই ঘটনা ঘটেছে।
মিঠাপুকুর থানার ওসি (তদন্ত) হাফিজুর রহমান বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় পুলিশ কোনো তদন্ত করেনি। মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
